নিজস্ব সংবাদদাতা : ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয়ের ছাদ থেকে বিলবোর্ড অপসারণকে কেন্দ্র করে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত। পুরোনো এফআইআর-এর সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নতুন নোটিশ পাঠাল কলকাতা পুলিশ। প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে ডেরেকের বাসভবনে গিয়ে বিকেলে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ কর্মীরা এই নতুন নোটিশটি তাঁর হাতে তুলে দেন। এতে তাঁকে বুধবার অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর দুপুরের মধ্যে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার একই সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়কেও তলব করা হয়েছে। এই বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও মঙ্গলবার অর্থাৎ ১ সেপ্টেম্বর দুপুরের মধ্যে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের পাঠানো আগের নোটিশ অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের মধ্যে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে চিঠি পাঠিয়ে হাজিরার জন্য সাত দিন সময় চেয়েছিলেন। চিঠি পাওয়ার পর কলকাতা পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন নোটিশ পাঠায়, যেখানে সাত দিনের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে।
গত ২৭ আগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় অফিস থেকে বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন কলকাতা পুরসভার কর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় থেকে বিলবোর্ডটি সরাতে গিয়েছিলেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ও’ব্রায়েন এবং অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা পুরসভার কর্মী ও পুলিশকে বাধা দেন বলে অভিযোগ। পুলিশ ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও বাধে বলে এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে।
শেক্সপিয়র সরণি থানায় দায়ের করা তিনটি এফআইআর-এ পুলিশ অভিযোগ করেছে, তৃণমূল কর্মীরা কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর শুধুমাত্র হামলাই চালাননি, বরং এক মহিলাপুলিশের শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনায় দায়ের করা তিনটি এফআইআর-এর মধ্যে দুটিতে অভিষেক, ডেরেক এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতা—যেমন হুমায়ুন কবীর ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের—নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ এই ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।