ওঙ্কার ডেস্ক : নেপাল বিপর্যয়ে রাসুওয়া জেলার রাসুওয়াগাধি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে অন্তত ৯৩ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। তাঁরা এখনও নিখোঁজ বলে নেপাল প্রশসন সূত্রে খবর। তাঁদের উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনী, বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনীয়ার এবং একটি ড্রোন দল অংশ নিয়েছিল। ভোটেকোশি নদীতে বন্যার ফলে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে শ্রমিকরা রয়েছেন এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করে।
নেপালের বন্যা-কবলিত একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধারকারীরা থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে পৌঁছালেও সেখানে কাউকে জীবিত অবস্থায় পাননি। দলটি সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে পৌঁছোলেও শ্রমিকদের কোনো হদিশ মেলেনি। এমন কি ড্রোন ব্যবহার করে ভেতরের অংশে তল্লাশি চালানো হয়, এর মধ্যে এমন সব এলাকাও ছিল যেখানে সরাসরি গিয়ে পরিদর্শন করা কঠিন বা বিপজ্জনক হত। কিন্তু ভেতরে কারও উপস্থিতির কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সোমবার জানিয়েছে যে, সেনাবাহিনী-নেতৃত্বাধীন দলটি ১১১ মেগাওয়াট ক্ষমতার রাসুওয়াগাধি প্রকল্পের সুড়ঙ্গে তল্লাশি চালানোর পর ফিরে এসেছে। সুড়ঙ্গে কেউ নেই বলে ড্রোন দল নিশ্চিত হওয়ার পর তল্লাশি অভিযান স্থগিত করা হয় এবং উদ্ধারকারীরা রাসুওয়া জেলার ধুনচে-তে ফিরে আসেন।
বন্যায় নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ অংশে শত শত শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন। অনেক জায়গায় উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হতে হিমশিম খাচ্ছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েছেন, নাকি উঁচু কোনো স্থানে সরে গেছেন, কিংবা বন্যার স্রোতে ভেসে গেছেন তা নিয়েও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এদিকে, বুধবার থেকে এ পর্যন্ত ৯০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৪,৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে।

টানেলের ড্রোন চিত্র
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA) সোমবার জানিয়েছে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা এ পর্যন্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলো থেকে ২৭৯ জনকে নিরাপদে বের করে এনেছেন। এর মধ্যে ‘আপার ত্রিশূলি-১’ প্রকল্প থেকে ২৫৪ জন এবং ‘লাংটাং খোলা’ প্রকল্প এলাকা থেকে আরও ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপালের ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন পৃথকভাবে জানিয়েছে, রাসুয়া ও নুয়াকোটের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৮৯৭ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।