বিপ্লব দাশ : খানিক বৃষ্টিতে কলকাতার যত্রতত্র জল জমা নতুন ঘটনা নয়। যাঁরা কলকাতায় রোজ আসেন, যান এবং যাঁরা বসবাস করেন তাঁদের কাছে এটা গা সওয়া। শহরের রাস্তা সংকুলান মেটাতে উড়ালপুল হয়েছে, মেট্রো হয়েছে, বাইপাশ হয়েছে, মল মার্কেট, বাহারি রেঁস্তোরা, কোথাও কোথাও সৌন্দর্য্যকরণও চোখে পড়ে। তবে বৃষ্টি এলে এই সাজ আর ঝকঝকে লাগে না। কলকাতা ডুবে যায় কলকাতাতেই। একসময় কাগজের নৌকো যাঁরা ভাসাতেন তাঁরা এখন অবসরের মুখে হাঁটু জলে প্যান্ট কিংবা ভিজে শাড়িতে বাড়ি ফেরেন। তার সঙ্গে এবার যোগ হল বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে মৃত্যু। তা যে নিছক দুর্ঘটনা নয় এটা আর বলে দিতে হয় না। এই গর্বের শহরে একরাতের বৃষ্টিতে ১০ জনের মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কলকাতার আসল চেহারা। কথা হল, এর দায় কার ? সরকারি ব্যবস্থাপনার, নাকি বেসরকারি দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ?
মৃত্যুর ফেরত হয় না। কিন্তু আর যাতে এর পুনরাবৃত্তি না হয় তার ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু করবে কে ? এর দায় যেমন কেউ নিতে চায় না তাই ধরে নিতে অসুবিধা নেই যে এর প্রতিকারেও কেউ নেই। বিষয়টা হল মানবিক মূল্যবোধ। বর্তমান সমাজে সর্বস্তরে যার ছিটেফোঁটা মেলা ভার। মানুষ এখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক, প্রশাসন এখন ভোটকেন্দ্রিক, ক্ষমতা চলে প্রতিহিংসা এবং পরনিন্দার ভারে। সমাজের চিত্রটা যে আমূল বদলে গেছে তা নিশ্চয়ই বোঝানোর অপেক্ষা রাখে না। তাই মানুষেরা সব দায় চাপিয়ে দেয় সরকারের উপর, আর জঞ্জাল বাড়ায় নির্দিধায়। এই যে সর্বস্তরে দায় চাপানোটা একটা সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে তো দুর্যোগ এসে চাপবেই। যতদিন না সাধারণ মানুষ দায় চাপানো ছেড়ে দায় সামলাতে চাইছে, ততদিন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। শুধু সরকারকে দুষলে সাময়িক সান্ত্বনা মেলে, দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ মেলে না।
