কৃষ্ণনগর, নদিয়া : মেয়েদের স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে গোপনাঙ্গ দেখিয়ে আপত্তিকর ঈঙ্গিত। অভিযোগ পেয়েই অভিযুক্তকে ঘেরাও করে স্থানীয়রা। ধাওয়া করে অভিযুক্তকে ধরে ফেলে এলাকার মানুষ। প্রকাশ্যে কান ধরে উঠবোস করানো হয় অভিযুক্তকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করে নেয় অভিযুক্ত।
সূত্রের খবর, কৃষ্ণনগর শহরের পরিচিত মেয়েদের একটি স্কুলের সামনে দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তি স্কুলের সময় নিয়মিত যাতায়াত করেন। তার গতিবিধির সন্দেহজনক ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। বেশ কয়েকবার স্কুলের ছাত্রীদেরকে অশালীন ইঙ্গিত করেন অভিযুক্ত, এমনটাই দাবি অভিভাবকদের। অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া মেয়েদের কটুক্তি করেন, তারা প্রতিবাদ করলে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে এর আগেও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা। তাকে সাবধান করে ছেড়ে দেন স্থানীয়রা। তার কিছুদিন পর থেকেই ফের ওই এলাকায় আনাগোনা শুরু করে অভিযুক্ত। অভিযোগ, এদিন স্কুল শুরুর সময় স্কুলের দুই ছাত্রী ও এক শিক্ষিকাকে “যৌনাঙ্গ” দেখিয়ে অশালীন ইঙ্গিত করেন। বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। ধাওয়া করে পাকড়াও করা হয় ওই ব্যক্তিকে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই ব্যক্তির বাড়ি কোতোয়ালি থানার আমঘাটা এলাকায়। তিনি নিজেকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক বলে দাবি করেন। যদিও ওই কলেজে খোঁজ করে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে নিজেই ক্ষমা চান অভিযুক্ত সঞ্জয় বিশ্বাস। কান ধরে উঠবোস করানো হয় অভিযুক্তকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই ছবি। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ওই ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে আসা হয় থানায়। জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে ওটা সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে অভিযুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় কৃষ্ণনগরে। মানুষের মুখে মুখে বয়ে যাচ্ছে নিন্দার ঝড়।
