ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলার রাজনীতিতে এখন মিঠুন কুণাল নিয়ে তোলপাড়। একদা দাদা ভাই বলে অবিহিত করত একে অপরকে, এখন তাঁরাই একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে চলেছেন। বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁচেছে।
মিঠুন চক্রবর্তী কুণালের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে কুণাল তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অসত্য, কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে আত্মরক্ষার দাবি এবং তাঁর ছেলে ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্যের মতো বিষয়কেই মামলার ভিত্তি করেছেন মিঠুন।
এদিকে কুণাল ঘোষ প্রথম থেকেই স্পষ্ট করেছেন, তিনি মোটেই বিচলিত নন। বৃহস্পতিবারই সেই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, মিঠুনের মামলার মোকাবিলা করবেন ‘রাজীব কুমার মডেল’-এর মতো করেই। তাঁর বক্তব্য, আদালতে গিয়ে তিনি আবেদন করবেন, তাঁকে মিঠুনের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হোক এবং সাক্ষী হিসেবে সিবিআইয়ের এক এসপিকে হাজির রাখা হোক। এমনকি কুণালের দাবি, তাঁর কাছে আরও এমন সাক্ষী রয়েছেন যাঁরা কোর্টে দাঁড়ালে মিঠুনের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মিঠুনের মামলার নোটিস হাতে পাননি বলেও জানিয়েছেন কুণাল। তবে তাঁর ধারণা, খুব শীঘ্রই সেই নোটিস পৌঁছবে। অন্যদিকে বিজেপি নেতার তরফে স্পষ্ট বার্তা, তাঁর এবং পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য কুণালের বিরুদ্ধে এই লড়াই আদালতেই চালিয়ে যাবেন তিনি। ফলে রাজনৈতিক সংঘাত এখন রূপ নিতে চলেছে আইনি লড়াইয়ে, যেখানে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানাচ্ছেন।
