ওঙ্কার ডেস্ক : পারিবারিক কলহ যেভাবে প্রকাশ্যে এসে পড়েছে তাতে তার ভয়াবহ পরিণতির কথা সতর্ক করে দিতে এবার মুখ খুললেন তেজ প্রতাপ। পরিবার ত্যাগী তেজ প্রতাপ এই পরিস্থিতিতে পরিবারের বিষয়ে ঢুকে পড়ায় নতুন মাত্রা নিয়েছে লালু যাদবের পারিবারিক কলহ। শুধু তাই নয়, পরিবারের মর্যাদা হানির দায়ে যিনি পরিবারচ্যুত তিনি এবার পরিবারের মর্যাদা রক্ষার জন্য তাঁর বাবার কাছে অনুমতি চেয়েছেন।
ইতিমধ্যে লালু যাদবের ত্যাজ্যপুত্র তেজ প্রতাপ যাদব তার বোন রোহিণী আচার্যের আনা চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন। রাজ্য নির্বাচনে আরজেডির বিশাল পরাজয়ের পর পারিবারিক কলহের জেরে রাজনীতি ও যাদব পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন রোহিনী। তাঁর অভিযোগ, দোষীদের দিকে আঙ্গুল তোলায় তার দিকে জুতোও তোলা হয়েছিল। তেজ প্রতাপ একটি অনলাইন পোস্টে তার বাবা লালু যাদবকে টনে এনেছেন। পরিবার এবং দল থেকে তাঁকে বহিষ্কারের কথা স্মরণ করিয়ে তীব্র ভাষায় পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, “আমার সঙ্গে যা ঘটেছে তা আমি সহ্য করেছি। কিন্তু আমার বোনকে যে অপমান করা হয়েছে তা যেকোনো পরিস্থিতিতেই অসহনীয়।”
গতকাল লালু যাদবের মেয়ে রোহিনী তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হয়রানির অভিযোগ এনে সিঙ্গাপুর চলে গেছেন। তেজ প্রতাপ বলেছেন, এই ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে বিহারের মানুষ তার পরিবারের উপর যারা আক্রমণ করেছে তাদের ক্ষমা করবে না। তেজ প্রতাপ বলেন, “আমার বোন রোহিণীর উপর চপ্পল ছোঁড়ার খবর শোনার পর থেকে আমার হৃদয়ের যন্ত্রণা আগুনে পরিণত হয়েছে। যখন জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত লাগে, তখন বুদ্ধির উপর ধুলো উড়ে যায়। এই কয়েকটি মুখ তেজস্বীর বুদ্ধিকেও মেঘলা করে দিয়েছে।”
এই পরিস্থিতিতে তিনি ভয়াবহ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। এমন কি, পরিবারের মর্যাদা রক্ষার জন্য তাঁর বাবার কাছে অনুমতি চেয়েছেন। বাবা লালি প্রসাদের কাছে তেজ প্রতাপেরে আবেদন, “এই অন্যায়ের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। সময়ের হিসাব খুবই কঠোর। আমি মাননীয় আরজেডি জাতীয় সভাপতি এবং আমার বাবা, আমার রাজনৈতিক গুরু, শ্রী লালু প্রসাদ জি-কে অনুরোধ করছি – বাবা, আমাকে একটা সংকেত দিন… শুধু একটা ইশারা, আর বিহারের মানুষ নিজেরাই এই জয়চাঁদদের কবর দেবে। এই লড়াই কোনও দলের নয় – এটি একটি পরিবারের সম্মান, একটি মেয়ের মর্যাদা এবং বিহারের আত্মসম্মানের লড়াই।”

আরজেডি নেতা সঞ্জয় যাদব এবং তেজস্বী যাদবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রমিজ খানকে পরিবারের মধ্যে ফাটলের জন্য দায়ী করেছেন রোহিনী। তিনি দাবি করেছেন, তাঁদের নির্দেশে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং তার বাবা-মায়ের বাড়ি ছেড়েছিলেন। রবিবার সকালে আরেকটি আবেগঘন পোস্টে রোহিনী অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে অপমান করা হয়েছিল। সূত্র অনুসারে, নির্বাচনে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তার ছোট ভাই তেজস্বী যাদবের সঙ্গে তর্কাতর্কির কথা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালে তিনি তাঁর বাবাকে যে কিডনি দান করেছিলেন তাকে তার পরিবারের সদস্যরা “নোংরা কিডনি”র বিনিময়ে নির্বাচনী টিকিট কেনা, এমনই নিন্দে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোহিনী।
