ওঙ্কার ডেস্ক: রবিবার দুপুরের দিকে ধনী তামাক ব্যবসায়ী কে কে মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্র তার বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে বেপোরয়া ভাবে রাস্তায় থাকা মানুষদের উপর চড়িয়ে দেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয় জন গুরতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলে থাকা ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উল্লেখ্য গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। দায়ের করা হয়েছে এফআইআর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি এতটাই দ্রুত গতিতে ছিল যে চালক ব্রেক কষার সুযোগই পাননি। প্রথমে একটি অটোকে ধাক্কা মেরে ছিটকে দেয়, তারপর রাস্তার ধারে দাঁড়ানো একটি বাইক ও কয়েকজন পথচারীকে আঘাত করে। একজন যুবক কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনায় অন্তত ছয়জন গুরুতর জখম হন। কারও পায়ে ভেঙ্গে যায় কারও মাথায় ও শরীরে গভীর চোট লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে গাড়ির চালক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী কে কে মিশ্রের পরিবারের সদস্য। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর কে কে মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্র গাড়ি থেকে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আহতদের অবস্থা দেখে উত্তেজিত জনতা চালককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। একসময় ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং চালককে নিরাপত্তার জন্য হেফাজতে নেয়।
দুর্ঘটনার জেরে কিছুক্ষণ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও ভাঙাচোরা অংশ রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে এবং বিলাসবহুল গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। কী কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, অথবা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা ছিল কি না সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী পরিবারের হওয়ায় যাতে কোনও চাপ বা আপস না হয়, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে প্রশাসনকে। আহতদের পরিবারও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে।
