ওঙ্কার ডেস্ক: ফুটবলের জাদুকর লিয়োনেল মেসিকে দেখতে শনিবার সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে উপচে পড়েছিল ভিড়। কিন্তু নেতা মন্ত্রী ও প্রভাবশালীদের ঘেরাটোপে থাকায় ‘গোটকে’ দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ফুটবল প্রেমীরা। শুরু হয় স্টেডিয়ামে ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা। এই পরিস্থিতিতে মেসিকে কলকাতায় আনার মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রুকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন ডিজি রাজীব কুমার। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, এদিন ১১টা ৩৪ মিনিট নাগাদ সল্টলেক স্টেডিয়ামে পা রাখেন লিয়োনেল মেসি। একটি সাদা রংয়ের বিলাসবহুল গাড়িতে চেপে মাঠে আসেন তিনি। গোটা স্টেডিয়াম আগে থেকেই হাউসফুল ছিল মেসিকে দেখার জন্য। মেসি যখন মাঠে পা রাখেন, সেইসময় তাঁর সঙ্গে ছিল রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং ক্রীড়া উদ্যোগপতি শতদ্রু দত্ত। এরপরই ‘ভিআইপি’ সমর্থকরা মাঠে ঢুকতে শুরু করেন। মেসিকে ঘিরে ধরেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার। মেসিকে না দেখতে পেয়ে ততক্ষণে মাঠের মধ্যে দর্শকরা বোতল, চেয়ার ছুঁড়তে থাকেন।
গোটা অব্যবস্থার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান লিখেছেন, ‘সল্টলেক স্টেডিয়াম আজ যে অব্যবস্থার সাক্ষী রইল, তার জন্য আমি অত্যন্ত বিরক্ত ও মর্মাহত। হাজার ক্রীড়াপ্রেমীর মতো আমিও স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলাম লিয়োনেল মেসিকে দেখতে। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য মেসি ও তাঁর ভক্তদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করেছি। সেই কমিটি ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা-ও দেখবে। আমি আরও একবার সমগ্র ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।’
