Skip to content
মার্চ 7, 2026
  • Facebook
  • Instagram
  • YouTube
  • Linkedin
  • WhatsApp Channel
  • Google Play
cropped-Onkar-Bangla-New-Web-Cover.psd-1.png

Onkar Bangla

Broadcasting (2)
Primary Menu
  • কলকাতা
  • পশ্চিমবঙ্গ
    • উত্তরবঙ্গ
    • বর্ধমান
    • পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
    • হাওড়া ও হুগলি
    • পুরুলিয়া বীরভূম বাঁকুড়া
    • উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা
    • নদিয়া মুর্শিদাবাদ
  • দেশ
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশ
  • সম্পাদকের পাতা
    • এডিট
    • পোস্ট এডিট
    • বইপত্র
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফ স্টাইল
  • ভ্রমন
  • পাঁচফোড়ন
  • লাইভ
  • ভিডিও
  • যোগাযোগ করুন
  • Home
  • সম্পাদকের পাতা
  • বাতাবী লেবুর গাছ

বাতাবী লেবুর গাছ

Online Desk জুন 7, 2025
Batabi.jpg

গৌতম রায়

৩

আজ থেকে পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে সমাজ যাদের ‘ছোটলোক’ মনে করতো, কুমোর-মুচি-মেথর-রিক্সাওয়ালা-কলকারখানায় খেটে খাওয়া মানুষজন– তাদের কে তো আর তারা ‘মানুষ’ বলে মনেই করতো না। তাই তাদের ছেলেপিলেদের পড়াশুনো করবার দরকর আছে, এই বোধটাও শহরতলীর ঘাট-আঘাটায় ছিল না।

এই কদিন আগেই সাহিত্য আকাদেমির অনুবাদে পুরস্কার পাওয়া এক অধ্যাপকের কাছে শুনছিলাম; শহরতলীর এক নিম্নবর্গীয় পরিবারের সন্তান হওয়ার দায়ে রোদ থেকে মাথা বাঁচাতে ছাতা ব্যবহার করবার ‘অপরাধে’ সেই মানুষটিকে তাঁর গাঁয়ে ছোটবেলায় কি ভাবে হেনস্থা হতে হয়েছিল।

এক তারকা খচিত বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করতে গিয়ে উচ্চবর্ণের অধ্যাপকদের মুখেই শুনি সেদিন, পুরস্কৃত অধ্যাপকটির পেশাগত কর্মকান্ড ঘিরে বিদূষণ। গোটা হল সেই বিদূষণ উপভোগ ও করল বেশ তারিয়ে তারিয়ে। কেউ একটাবারের জন্যেও বললো না, ছেলেটি যদি ব্যানার্জী- চ্যাটার্জী- বাগচি- ভট্টাচার্য বা ঘোষরবোস-দাশগুপ্ত হত, তবে বাবুমশাইরা সাহস পেতেন এমন টিটকারি করবার ?

আমি যে শহরে বড়ো হয়েছি, আমার বেড়ে ওঠার সময়ে ব্রাহ্মণ্যবাদের ঠুনকো বেরাদরি এই শহরের হৃদয়টাকে ভেঙে চুড়চুড়ে করে দিয়েছিল তার অনেক আগেই। সমরেশ বসু তাঁর ‘জগদ্দল’ উপন্যাসে এই শহরের কাঁচাখেকো বামুনদের দানবীয়তার কথা লিখে গেছেন।

গরীবগুর্বো, ছোটজাতের ছেলেরা, তার সঙ্গে তাদের বাড়ির মেয়েরা স্কুলে গিয়ে পড়াশুনো শিখবে ? এটা আবার বামুন ঠাকুরেরা মেনে নিতে পারে নাকি ?। এসব বাড়ির বৌ-ঝিয়েরা বামুনদের বাড়ির এঁটোকাটা পরিস্কার করবে। ঘরদোর মুক্ত করবে। বাসি ভাতরুটি খাবে। ফেলাছোড়া খাবে। আর সেসব খেয়েই গায়ে গতরে বেড়ে উঠলে পরে রাতের অন্ধকারে এইসব বামুন ঠাকুরদের বিছানায় সুখ দেবে। সুখ দিতে গিয়ে পেট বিঁধিয়ে ফেললে বামুন মায়েরাই জোগার করে দেবে শেকড়বাকড়
তাতে হয় পেটেরটা মরবে। নচেৎ নিজে মরবে।

আর যদি শেকড় মাটিতে পড়েই যায়, তাহলে কি হত সেকালে তা বোঝবার জন্যে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে বসা বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ি, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে যেমনটা ছিল, তার একদম গা ঘেঁসে গজিয়ে ওঠা বস্তিগুলোর মানূষজনদের দেখলেই খুব সহজে বুঝতে পারা যেত। এসব গরীব মানুষদের, বাড়িতে বাড়িতে বাসন মেজে, জামা-কাপড় কেচে, ঘরদোর মুছে, রিক্সা চালিয়ে, ভাটিখানায় মদ বানিয়ে যাঁরা পেটের ভাত জোগাড় করেন, তাঁদের সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে আসতে হবে প্রথাগত শিক্ষার মূল ধারায়।

আমাদের শহরে এইসব বামুনঠাকুরেরা যে অনেককাল আগে কৌতুকে, করুণায় দেখা লোকজনদের শুভঙ্করী আঁক শেখানোর কাল থেকে আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান পড়া, ইংরেজি পড়া– এইসব বিষয়ে খুব সদয় মন-মানসিকতা নিয়ে চলতেন তা নয়। টোল-চতুষ্পাঠীর দিকেই ছিল তাঁদের বেশি পক্ষপাতিত্ব। যদিও নবদ্বীপ, গুপ্তিপাড়া বা প্রায় পাশের শহর, হালিসহরে এসব টোল- চতুষ্পাঠীতে যেভাবে দর্শন শিক্ষার চল ছিল, সেরকম পথে আমাদের শহরের বামুন ঠাকুরেরা খুব একটা হাঁটতে চাইতেন না। করণ, তেমন পথে হাঁটলে যে একাদশী, নবমী — এমনতরো তিথিতে কি খাওয়া উচিত আর উচিত নয়, তা নিয়ে বিশেষ একটা লোকজনদের প্রভাবিত করবার সুযোগ থাকতো না।

তবে কালের গতিতে বামুনঠাকুরেরা যখন একটু একটু করে বুঝতে শুরু করলেন যে, টুলো বিদ্যেতে যদি আটকে রাখি নিজেদের ঘরের ছেলেপিলেদের তবে আগামী দিনে তারা ভাত জোটাতে পারবে না। এসব কাঁচাখেঁকো বামুনদের টিকির বাহার যাই থাকুক না কেন, বিষয় নাড়ি ছিল বেশ ভালোরকমেরই টনটনে।

ইতিমধ্যে শহরে সরকারি স্কুল হয়েছে। টোল পারছে না প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে। প্রাগৈতিহাসিকতার সঙ্গে আধুনিকতার দ্বন্দ্ব ক্রমেই তৈরি করছে সংঘাত। টুলো পন্ডিতদের বাড়ির ছেলেপিলেরাই পড়তে চাইছে না টোলে। যেতে চাইছে সরকারি স্কুলে। পড়তে চাইছে সাহিত্য- ইতিহাস-বিজ্ঞান-ইংরেজি। এই সংঘাতকে সামাল দিতে বামুনঠাকুরেরা প্রায় নাজেহাল।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্কুল হচ্ছে। কিন্তু সেখানে এই শহরের বামুন ঠাকুরদের ঘরের লোকজন চাকরি প্রায় পাচ্ছেই না। কারণ, তাদের যোগ্যতা নেই। আধুনিক কালের পড়াশুনোর সঙ্গে তাদের বেশিরভাগেরই সম্পর্ক তো দূরের কথা। পরিচয়ই ঘটেনি। ফলে স্কুলের চাকরিগুলো টপাটপ দখল করে নিচ্ছে সব বাঙাল দেশের ছেলে ছোকরারা। তারা তো আধুনিক সময়ের স্কুল-কলেজে পড়েছে। বি এ, এম এ ডিগ্রি অর্জন করেছে। সেই ডিগ্রিরই তো দাম চাকরির বাজারে। স্কুল -কলেজে। তর্কলঙ্কার, ন্যায়ালঙ্কার, সার্বভৌম, তর্কবাচষ্পতি– এসব উপাধি দিয়ে তো আর যাই হোক নতুন নতুন তৈরি হওয়া স্কুল-কলেজে চাকরি মিলবে না।

মান্ধাতার ঠাকুর্দার আমলের অচলায়তনকে ভেঙে ছেলেদের স্কুল হয়েছে। হয়েছে মেয়েদের ও স্কুল। কিন্তু শুরুর দিকে এইসব স্কুলগুলোতে শিক্ষকতার চাকরি বেশিরভাগই স্থানীয় মানুষজনেরা পান নি। না পাওয়ার পিছনে প্রথম এবং প্রধান কারণ ছিল, সরকার অনুমোদিত স্কুলে চাকরি পাওয়ার জন্যে যে যোগ্যতার বিষয়গুলো ছিল, তার বেশিরভাগই ছিল না স্থানীয় ভটচার্যি বামুনদের ঘরের পুরুষ বা মহিলাদের।

স্থানীয় একটি শতাব্দী প্রাচীন স্কুলে একজন মাস্টারমশাই ছিলেন। ধরে নেওয়া যাক, তাঁর নাম ছিল সোমনাথ।সোমনাথ মাস্টার বলে সমাজে তাঁর যথেষ্ট খ্যাতি ছিল। আর দশ জনের সঙ্গে তিনি নিজেকে খানিকটা আলাদা করবার চেষ্টা করতেন তাঁর ‘মাস্টার’ বিশেষণটাকে কাজে লাগিয়ে।

২০২৪ সালের ভাইফোঁটার দিন নৈহাটি লোকালে করে যাচ্ছি দিদির বাড়িতে। আমার কামরাতেই উঠেছে সোমনাথ মাস্টারের দৌহিত্র। কথায় কথায় তাঁর দাদামশাইয়ের কথা উঠলো। ছোটবেলায় অঙ্কে আমি খুবই কাঁচা ছিলাম। সোমনাথ মাস্টার ছিলেন আমার দাদুর পরিচিত। তাই মাঝেমধ্যে আসতেন আমাদের বাড়িতে। আমাকে ভারি সুন্দর অঙ্কের কিছু ধাঁধা শিখিয়েছিলেন। ট্রেনে যেতে যেতে সেকথা ওঁর দৌহিত্রকে বললাম। জিজ্ঞেস করলাম: উনি তো অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন।
আমতা আমতা করে সেই ছেলেটি উত্তর দিল, না, উনি লাইব্রেরি সহায়ক ছিলেন।

পঞ্চাশ বছর ধরে যে মানুষটিকে প্রথাগতভাবে একটি সরকার অনুমোদিত স্কুলের মাস্টারমশাই ভেবেছি এবং সমাজে দেখেছি শিক্ষক হিশেবে সোমনাথ মাস্টার কী সম্ভ্রম আদায় করছেন, সেই মানুষটি আদৌ প্রথাগতভাবে ইস্কুলে ছিলেন একজন গ্রন্থাগার সহায়ক, লাইব্রেরিয়ান ও নন ? বিষয়টাতে আশ্চর্ষ হলেও অবাক হই নি। কারণ, যে প্রসঙ্গের কথা বলছিলাম, এখানকার বামুন ঠাকুরেরা নিজেদের পুত্র সন্তানদের প্রথাগত শিক্ষার মধ্যে আজ থেকে সত্তর-আশি বছর আগেও আনতে চাইতেন না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। সোমনাথ মাস্টারের বিষয়টা হল, সেই বামুন ঠাকুরদের কৃতকর্মের পরিণতি। আর এইসব বামুন ঠাকুরদের বাড়িতে মাঝে মধ্যে যাও বা প্রথাগত পড়াশুনো নিয়ে ব্যতিক্রম দেখা যেত পুত্র সন্তানদের ঘিরে কিন্তু মেয়েদের বেলা নৈব নৈব চ। তাই এখানে শতবর্ষ প্রাচীন স্কুল থাকলেও সেসব স্কুলে জন্মলগ্নে স্থানীয় বামুন ঠাকুরদের বাড়ির কোনও প্রতিনিধিই প্রায় ছিল না মাস্টারমশাই বা দিদিমণি হিসেবে। এই জায়গাটাতে অবিভক্ত বাংলার কালে দাপট ছিল পূর্ববঙ্গের মানুষদের। যদিও এসব পাশ্চাত্য আর দাক্ষিণাত্য বামুনদের কাছে ‘বাঙাল’ ছিল কার্যত অস্পৃশ্য।

হাই স্কুলে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের শহরের সমাজপতি বামুন ঠাকুরেরা বিশেষ সুবিধে করে উঠতে না পারলেও নিজেদের নানা ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একেবারে বামুনপাড়ার ভিতরে তারা একটা আধটা প্রাইমারি স্কুল খুলেছিল। সেসব স্কুলে ধীরে ধীরে বামুনবাড়ির ছেলেরা যেতে শুরু করলো। এমন এক স্কুলের নাম মায়ের কাছে শুনেছিলাম, নিভাননী স্কুল। সম্ভবত কোনও ধনী ডাক্তারবাবুর বদান্যতায় সেই প্রাইমারি স্কুলটি তৈরি হয়েছিল। আমার মা সেই স্কুলেই প্রাইমারি পড়েছিলেন। সেই স্কুলের সরস্বতী পুজোতে প্রতিমার সহ মায়েরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ছবি তুলেছিলেন। সে ছবি এখনও আমাদের বাড়িতে আছে।

সেই স্কুলে পড়া কেউই বোধহয় এখন আর বেঁচে নেই। শহরের কোথায় ছিল সে স্কুল, মায়ের কাছ থেকে তা জেনে রাখাও হয় নি। তবে আমাদের শহরে চা বাগানে কুলি চালান দেওয়ার একটা ব্রিটিশ মালিকানাধীন কোম্পানীর খুব রমরমা ছিল দেশভাগের আগে। নাম ছিল- টি ডিস্ট্রিকস লেবার অ্যাসোসিয়েশন। সংক্ষেপে টি ডি এল এ। এই সংস্থাটি তরাই, ডুয়ার্সের চা বাগানগুলোতে কুলির জোগান দিত। আসামের চা বাগানগুলোতেও দিত। বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে আড়কাঠিরা নিয়ে আসতো মানুষ ধরে। সেসব মানুষদের প্রধান জড়ো করবার জায়গা ছিল আমাদের শহরের একটা প্রান্ত। যা থেকে এলাকাটার নাম হয়ে গিয়েছিলো- কুলিডিপো। এ নাম এখনও আছে। তবে অবাঙালি বাস কনট্রাকটারেরা অবশ্য এই কুলিডিপো করে উচ্চারণ ভেদে এখন করে দিয়েছে ‘কয়লাডিপো’।

বামুনপাড়ার প্রাইমারি স্কুলের মধ্যে পাঁচমন্দিরের আশে পাশে ছিল শিবু মাস্টারের স্কুল। টাক মাথা, মুখটা সব সময়েই বেশ হাসিখুশি, ধুতি আর ফতুয়া পড়া শিবু মাস্টারকে কেউ কখনো রিক্সা, বাস বা সাইকেলে চড়তে দেখেছে কি না সন্দেহ। দুই পা ছিল শিবু মাস্টারের সব সময়ে সচল। চাঁদি ফাটা রোদেও শিবু মাস্টার পদাতিক আবার হাড় কাঁটানো মাঘের শীতেও তেমনিই। আর পোষাকেও বদল নেই কোনও।

শিবু মাস্টারের আর একটা পরিচয় ছিল। সে বাঁ হাতে ঘুঁটে দিতো। এই পরিচয়ে শিবু মাস্টারের পরিচিতির গন্ডি এতোটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে শিবু মাস্টারের ছেলে গোপালকে তার বাবার বাঁ হাতে ঘুঁটে দেওয়া নিয়ে বন্ধু-বান্ধবেরা ক্ষেপাতে ছাড়তো না।

এইরকম দু একটা প্রাইমারি ইস্কুল শহরের আনাচে কানাচে ছিল। তবে সাতের দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সেসব স্কুলে ‘ছোটজাতে’র লোকেদের ছেলেমেয়েদের পড়বার ব্যাপারটা খুব একটা জলচল ছিল না। অমরকৃষ্ণ পাঠশালার প্রাইমারি সেকশনটা ছিল হাইস্কুলের একটু আগে। শ্যামলদা, শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিক পাশে। জমিটা ছিল শ্যামলদাদের পারিবারিক। গত এক যুগে যেভাবে সরকারি স্কুলগুলোর গঙ্গাযাত্রা হয়েছে, সেভাবেই চচ্চড়ি পান্ডার সেই স্কুল ও এখন ইতিহাস।

চচ্চড়ি পান্ডা– নামটা শুনেই পাঠক বেশ শিউরে উঠছেন নিশ্চয়ই। কোনও মানুষের আবার এমন নাম হয় নাকি ? তাও আবার স্কুল টিচার। সম্ভবত ওই প্রাইমারি স্কুলটার হেড স্যার ছিলেন এই চচ্চড়ি পান্ডা। লোকটার সত্যিই এমন কিম্ভুতুরে নাম, নাকি লোকে তার অমন নাম দিয়েছে- এ নিয়ে সেকালে নানা পরস্পর বিরোধী কথা ছিল। তবে সে কথার রেশ বয়ে চলা মানুষই প্রায় এখন আর নেই।

চচ্চড়ি পান্ডার নাম অনেকদিন পরে সেদিন শুনলাম অশোকদার কাছে। অশোক গাঙ্গুলি। না না সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন না ইনি। আমাদের শহর থেকে একটু দূরে ইনচেকে চাকরি করতেন এই অশোকদা। আমাদের শহরে চচ্চড়ি পান্ডার শেষ ডাইরেক্ট ছাত্র। চচ্চড়ি পান্ডার আসল নামটা এখন অনেকেই ভুলে গেছে। বাঁকুড়ার মানুষ ছিলেন ঈশ্বরী পান্ডা। একা থাকতেন। সম্ভবত বিয়ে থা করেন নি। নিজেই রেঁধেবেড়ে খেতেন। বড় ভালোবাসতেন চুনো মাছের চচ্চড়ি খেতে। তাঁর হাতের চুনো মাছের চচ্চড়ি যাঁরা খেয়েছেন, তাঁরা এখনও সে স্বাদ ভুলতে পারেন না। আর এই চচ্চড়ির প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্বের জন্যেই খোদ বাঁকুড়ার ঈশ্বরী পান্ডার নাম হয়ে গেছিল চচ্চড়ি পান্ডা!

একটু মোটাসোটা নাদুস -নুদুস গোছের চেহারা। আমাদের এই শহরতলীর জল আলো বাতাসের সঙ্গে বেশ মিশে গিয়েছিলেন। তাঁর হাতে গড়া কত ছাত্র হয়তো এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। জীবনে অনেকেই তাঁরা বেশ ভালো ভাবেই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তাঁদের কজনের আর এখন মনে আছে ছোটবেলার প্রাইমারি স্কুলের সেই মাস্টারমশাইকে ? আড়ালে আবডালে ছাত্রেরা যে তাঁর নামকরণ করেছে ‘চচ্চড়ি’, এটা নিশ্চয়ই তাঁর অজানা ছিল না। কিন্তু এজন্যে মনে হয় না তিনি কখনও কোনও ছাত্রের উপর বিরক্ত হয়েছেন।কেবলমাত্র তাঁর নামকরণৃর জন্যে কোনও ছাত্রকে মারধোর করেছেন। আসলে সেযুগে ছাত্র- শিক্ষকের সম্পর্কটা ছিল একদম অন্যরকমের। ছেলেপিলেরা দুষ্টুমি করতো। আবার ভালোওবাসতো শিক্ষকদের। তেমনটাই ছিল শিক্ষকদের দিক থেকেও ছাত্রদের প্রতি আচরণ।
( চলবে)

Post Views: 347

Continue Reading

Previous: জলসংকটে ধুঁকছে পাকিস্তান, সিন্ধু-চুক্তি রদ পুনর্বিবাচনার আর্জি জানিয়ে চারবার দিল্লিকে চিঠি
Next: সোদপুরের এক যুবতিকে আটকে রেখে পাশবিক অত্যাচার করার অভিযোগ মা ও ছেলের বিরুদ্ধে

সম্পর্কিত গল্প

BN.jpg

বাংলাদেশের নির্বাচনের মুলমন্ত্র কী সংখ্যালঘু বৈষম্য ! ইসলামকেন্দ্রিক রাজনীতির উত্থানে কোন দিকে বাংলাদেশ ?

Online Desk ফেব্রুয়ারি 8, 2026
Survey.jpg

বাজেটের আগে স্বস্তি কেন্দ্রের, চলতি আর্থিক বছরে দেশের জিডিপি বেড়ে ৮.২ শতাংশ

Online Desk জানুয়ারি 30, 2026
Modi.jpg

স্বদেশী আন্দোলনের মন্ত্রে জাতির বিভাজনের বীজ বুনেছিল কংগ্রেস : নরেন্দ্র মোদী

Online Desk ডিসেম্বর 8, 2025

You may have missed

20260307_171930.jpg

‘কী ভাবে আত্মহত্যা করতে হয়’ এআই প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন করে চরম সিদ্ধান্ত দুই কলেজ ছাত্রীর? মন্দিরের শৌচাগার থেকে উদ্ধার দেহ

Online Desk মার্চ 7, 2026
Emirates-flight.png

দুবাইয়ে সব উড়ান সাময়িকভাবে বন্ধ করল এমিরেটস, যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ

Online Desk মার্চ 7, 2026
micheal-clarke-australia-070326-1772864318.jpg

‘ভারতই বিশ্বকাপে সেরা দল’, ফাইনালের আগে ভবিষ্যৎবাণী অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়কের

Online Desk মার্চ 7, 2026
20260307_150934.jpg

শনিবার থেকেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Online Desk মার্চ 7, 2026
  • Get in Touch
  • Privacy Policy
  • Facebook
  • Instagram
  • YouTube
  • Linkedin
  • WhatsApp Channel
  • Google Play
Copyright © All rights reserved. | Designed and Maintained by UQ Labs.