ওঙ্কার ডেস্ক: বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে লোকসভায় শুরু হল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাবে ভারতীয় সেনার চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে আলোচনা। যদিও সেই আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই প্রবল হইচই, বিক্ষোভ এবং কার্যত বিশৃঙ্খলার চিত্র দেখা গেল সংসদের দুই কক্ষেই। বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মধ্যে দাঁড়িয়েই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। তিনি জানান, ‘‘মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই সফলভাবে অভিযান শেষ করেছিল সেনা। অপারেশন সিঁদুরে খতম করা হয়েছে ১০০-র বেশি জঙ্গিকে”।
সোমবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল সংসদ ভবন। বিরোধীদের লাগাতার দাবির মুখে স্থির হয়, লোকসভায় ১৬ ঘণ্টা এবং রাজ্যসভায় ৮ ঘণ্টার আলোচনার মাধ্যমে এই সেনা অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে দিনের শুরু থেকেই সেই আলোচনা বারবার ব্যাহত হয়। হট্টগোলে একাধিকবার মুলতুবি করতে হয় অধিবেশন। সকালেই যখন লোকসভা অধিবেশন শুরু হয়, তখন বিরোধী সাংসদরা শোরগোল শুরু করেন, স্লোগান তোলেন। স্পিকার ওম বিড়লা বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানান, এমনকি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আপনারা কি সত্যিই আলোচনা চান?’’
দুপুর ১২টা নাগাদ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষণ দিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বিরোধীদের গোলমালের জেরে স্পিকার প্রথমে অধিবেশন দুপুর ১টা পর্যন্ত মুলতুবি রাখেন। এরপরও শান্ত না হওয়ায় তা ২টো পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। বিরোধীদের প্রতিবাদে রাজ্যসভার অধিবেশনও দিনের প্রথমার্ধে মুলতুবি রাখতে হয়।
লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘অপারেশন সিঁদুর একটি অত্যন্ত কৌশলী ও নিখুঁত সেনা অভিযান। মাত্র ২২ মিনিটে সেনারা কাজ শেষ করে ফেলে। এই অভিযানে শতাধিক জঙ্গিকে নিরস্ত করা হয়। সেনার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত”। তিনি আরও জানান, অপারেশনের আগে এবং পরে গোটা এলাকা নজরদারিতে রাখা হয়, যাতে কোনও সাধারণ নাগরিকের ক্ষতি না হয়।
অন্যদিকে, বিরোধীরা দাবি তোলেন, সেনার সাহসিকতা নিয়ে তাঁদের কোনও প্রশ্ন নেই, কিন্তু সরকার কেন এতদিন ধরে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদে আলোচনা এড়িয়ে গেল, তার জবাব চাই। তাঁদের অভিযোগ, সরকার তথ্য লুকোচ্ছে, প্রশ্ন এড়াচ্ছে। এখন মঙ্গলবার রাজ্যসভায় আলোচনার অপেক্ষায় গোটা দেশের নজর থাকবে সেখানে।
