ওঙ্কার ডেস্ক: ২১ ডিসেম্বর মহারাষ্ট্রের কাউন্সিল নির্বাচনের ফলপ্রকাশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোড়গোল। ২৮৮ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘মহাজুটি’। যার মধ্যে শরদ পাওয়ারদের দল এনসিপি পেয়েছে ৫৩টি আসন এবং উদ্ধব ঠাকরের দল শিবসেনা ৩৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাঢ়ি’ ৪৪ টি আসনে জিতেছে। এছাড়াও নির্দল প্রার্থী ৫টি আসন এবং কমিশন নথিভুক্ত দল ৪টি আসনে জয়লাভ করেছে। অস্বীকৃত দল মোট ২৮টি টি আসনে জিতেছে।
মহারাষ্ট্রের পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। এই নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাজুটি জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। বিজেপি, একনাথ শিন্ডের শিবসেনা ও অজিত পওয়ারের এনসিপি নিয়ে গঠিত এই জোট রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।
ভোটগণনার চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, মোট পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েতের সভাপতির পদের অধিকাংশই দখল করেছে মহাজুটি। বিশেষ করে বিজেপি একক দল হিসেবে সর্বাধিক আসন জিতে নিজেদের শক্তি আরও মজবুত করেছে। শহর ও আধা-শহরাঞ্চলে উন্নয়ন, পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ভোটারদের সমর্থন যে শাসক জোটের দিকেই ঝুঁকেছে, ফলাফল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের জন্য এই ফল যথেষ্ট ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস কিছু এলাকায় লড়াইয়ে টিকে থাকলেও প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা ও শরদ পওয়ারের এনসিপি সীমিত সংখ্যক আসনে জয় পেলেও সামগ্রিকভাবে ফল তাদের পক্ষে যায়নি। গ্রামীণ ও শহরতলির বহু এলাকায় বিরোধীদের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ার ছবিও উঠে এসেছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শাসক জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব এই জয়কে সরকারের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরেছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে উন্নয়নমূলক প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে, যার প্রতিফলন এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৃহত্তর পুরনিগম নির্বাচনেও একই ধারা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী মহাজুটি নেতৃত্ব। মহারাষ্ট্রের পুরসভা ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল রাজ্যের রাজনীতিতে শাসক জোটের ভিত আরও মজবুত করেছে। এই ফল আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
