ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের থানে জেলার শাহাপুরের আর এস দমানি স্কুলে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ, শ্রেণি ৫ থেকে ১০-এর ছাত্রীরা ঋতুচক্রে রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে তাদের বিবস্ত্র করা হয়েছিল স্কুলের মধ্যে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্কুলের প্রিন্সিপাল, চার শিক্ষক, এক মহিলা পরিচারিকা এবং দুই ট্রাস্টির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ওই বেসরকারি স্কুলের শৌচাগারে রক্তের দাগ দেখতে পান কর্তৃপক্ষ। এরপরই স্কুলের প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকরা সিদ্ধান্ত নেন ছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও শারীরিক পরীক্ষা করার। অভিযোগ, প্রথমে শ্রেণি ৫ থেকে ১০-এর সমস্ত ছাত্রীকে স্কুলের কনভেনশন হলে ডেকে আনা হয়। প্রজেক্টরের মাধ্যমে টয়লেটে পাওয়া রক্তের দাগের ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন করা হয়, কারও ঋতুস্রাব চলছে কি না। অভিযোগ, যারা স্বীকার করে তারা ঋতুচক্রে রয়েছে, তাদের কাছে শিক্ষকরা থাম্ব ইমপ্রেশন নেন। আর যারা জানায় তারা ঋতুচক্রে নেই, তাদের এক এক করে শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে এক মহিলা পরিচারিকার মাধ্যমে গোপনাঙ্গ পরীক্ষা করানো হয়!
এই অমানবিক ও লজ্জাজনক ঘটনার কথা জানতে পেরে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বুধবার স্কুল প্রাঙ্গণে জমায়েত হন। থানে এলাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাহুল জালটে জানান, অভিভাবকদের বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি কিছুক্ষণ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এক ছাত্রীর অভিভাবক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে শাহাপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল, চার শিক্ষক, এক মহিলা পরিচারিকা ও দুই ট্রাস্টির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (ভারতীয় নিয়ায় সংহিতা)-র ৭৪ ধারা (নারীর লজ্জা ভঙ্গের উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা বল প্রয়োগ), ৭৬ ধারা (নারীকে বিবস্ত্র করার উদ্দেশ্যে বল প্রয়োগ) এবং শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (POCSO)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
শাহাপুর থানার সিনিয়র ইন্সপেক্টর মুকেশ ধাগে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার পর স্কুল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং মর্যাদা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
