মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিতর্কের আবহে ফের সক্রিয় বিরোধী শিবির। আগামী বুধবার দিল্লিতে বৈঠকে বসছে INDIA জোট। দেশের প্রায় সব বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিত থাকার কথা। ওই বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, জোটের বৈঠকের পাশাপাশি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে মমতার। সূত্রের খবর, সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করতে চান তিনি, এবং সেই বৈঠকে রাহুল গান্ধীও উপস্থিত থাকুন, এমনটাই চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। এই বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে দুই দলের মধ্যে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরের খবর, বিধানসভা উপনির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগী হয়েছেন মমতা। তারই ইঙ্গিত হিসেবে নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী না দিয়ে আসনটি কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
গত কয়েকদিনে জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে সরব বিরোধীরা। SIR প্রক্রিয়ায় ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে গত ৮ জুন দিল্লিতে বৈঠক করেছিল INDIA জোট। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ফের একই ইস্যুতে বৈঠকে বসতে চলেছে বিরোধী শিবির।
জোট নেতাদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে দেশজুড়ে প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করেই বিজেপি-বিরোধী লড়াই জোরদার করতে চান তাঁরা। মমতাও চাইছেন, জাতীয় স্তরের পাশাপাশি রাজ্যেও কংগ্রেসকে পাশে নিয়ে চলতে। তবে বৈঠকের আগেই জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বুধবারের বৈঠকে থাকছেন না। তাঁর জায়গায় দলের কোনও শীর্ষ নেতা প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। উত্তরপ্রদেশে আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কংগ্রেস থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই অখিলেশের এই সিদ্ধান্ত, এমন গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও সপা-র তরফে বলা হয়েছে, রাজ্যের ১০টি রাজ্যসভা আসনের ভোটের প্রস্তুতির কারণে তিনি যেতে পারছেন না।
এদিকে বৈঠকের আগে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির সঙ্গে দেখা করেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফলে বুধবারের বৈঠকে কেজরিওয়াল যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী বুধবার ইন্ডিয়া জোটের হাই প্রোফাইল বৈঠকের দিকেই নজর থাকবে সবার।