স্পোর্টস ডেস্ক : তিনি আজও চেজ মাস্টার। তিনি আজও রেকর্ড ব্রেকার। তিনি আজও একা হাতে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। তিনি আজও এমন এমন শট খেলেন যা দেখে বিস্মিত হতে হয়। তিরুবনন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কোহলি যে মাস্টারক্লাস ইনিংসটা খেললেন তাতে যেকোনও বিশেষণই কম হয়ে যাবে। রবিবার, তিরুবনন্তপুরমে ১৩৯ রানের ইনিংসে ক্যারিবিয়ান বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন কোহলি। গোটা ইনিংসে মাত্র একবার সুযোগ দিয়েছিলেন বিপক্ষকে, তাও যখন জয়ের জন্য ২০ রানেরও কম বাকি.এদিনের ইনিংসে একাধিক রেকর্ড ভাঙলেন বিরাট। ভাঙলেন শচীনের রেকর্ড। দ্রুততম ১৫ হাজার রান করে দর্শকদের ধন্যবাদ জানালেন। একদিনের ক্রিকেটে ৫৫তম শতরান করলেন। সবথেকে বেশি ছক্কা মারলেন এদিনের ইনিংসে।
সময় বদলায়, ক্রিকেটের মঞ্চ বদলায়, প্রতিপক্ষ বদলায়-কিন্তু বিরাট কোহলির ব্যাট নিজের গল্প লিখতে ভুলে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ফের শতরান করে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন, কেন তাঁর নামের পাশে লেখা থাকে ‘কিং’। দলকে জিতিয়ে উঠে কোহলি বললেন, ‘আমি স্রেফ কৃতজ্ঞ এবং খুশি। আমাদের শুধু পিছন ফিরে দেখতে হবে যে কোথা থেকে এসেছি। যে খ্যাতি আমরা পাই এবং সমর্থকেরা আমাদের যে ভাবে ভালবাসেন তাতে আমরা নিজেদের উত্থানের কথাটাই ভুলে যাই। কোথা থেকে এসেছেন সেটা ভোলা খুব সহজ। কিন্তু ছোটবেলা থেকে উঠে আসা পথটার দিকে তাকালে কৃতজ্ঞতাবোধ আসবেই। এমনও হতে পারত যে আমি হয়তো এখানে না-ই দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম। হয়তো ভারতের হয়ে কোনও দিন খেলতেই পারতাম না। কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এত অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারছি। এত মানুষের সামনে দলের হয়ে নিজের অবদান রাখতে পারছি। এই স্বপ্নটাই তো দেখেছিলাম। হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছু বলার নেই। মাথা নিচু করে নিজের কাজ করা ছাড়া, নিজে হেসে অন্যকে হাসানোর সুযোগ করে দেওয়া ছাড়া আর কিছু বলার নেই। সবার আগে খেলাটাকে বোঝার চেষ্টা করি। নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করি। কারণ আসল খেলাটা হয় মনে। আমি কখনওই খুব বেশি অনুশীলন করি না। তিন ফরম্যাটে খেলার সময় থেকেই এটা বজায় রেখেছি। মানসিক ভাবে তরতাজা থাকাই আমার কাছে আসল। বর্তমানে বাঁচতে ভালবাসি এবং মাঠে নেমে নির্দিষ্ট ভাবে নিজের কাজটা করতে পছন্দ করি। জীবনের এই পর্যায়ে নিজের খেলার ধরনকে একটা বা দুটো গিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এই পর্যায়ে নতুন কোনও আঙ্গিকে নিজেকে পেশ করতে পারলে ভালই লাগে। আইপিএলে খেলি বা ভারতের হয়ে, এতে দলেরই উপকার হয়। অনেক মুক্তমনে খেলতে পারি। শরীরকেও ঠিক রাখি। আগে থেকে কল্পনা করে নিই কী ভাবে খেলব। মাঠে নেমে সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।শেষ ১৫ ওভার যাতে এই বাউন্ডারি থেকে ওই বাউন্ডারি পর্যন্ত দৌড়তে পারি সেই চেষ্টা করি। বৃত্তের মধ্যে ফিল্ডিং করি। যতগুলো বিষয় ঠিক রাখার দরকার, সেটা ঠিক রাখি। এখনও এই ফরম্যাটে কিছুটা খেলা বাকি রয়েছে আমার। তাই প্রতিটা দিন উপভোগ করতে চাই। সুযোগ পেলে চাপে থাকা বদলে সেটা ভাল করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। নিজেকে নিজের মতো করে তুলে ধরি। নিজেকেই নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, ইতিবাচক ভাবে ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব, তবে বেপরোয়া হব না। পেশাদার এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে বেপরোয়া শট না খেলে দলকে জেতানোই আমার কাজ।”
এ দিন সচিনের থেকে ৭২টি ম্যাচ কম খেলে এক দিনের ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান পার করেছেন কোহলি। তবে আগের মতো এ বারও তিনি নজির নিয়ে বিশেষ ভাবিত নন। বলেছেন, “কখনওই মাইলফলকের কথা ভেবে খেলি না। পরিস্থিতি বুঝে দলকে সাহায্য করাই আমার দায়িত্ব। তাতে কিছু কিছু জিনিস অর্জন করা যায়। এত দিন ধরে খেলতে পারার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মাথা নিচু করে কঠোর পরিশ্রম করি এবং যা অর্জন করেছি তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। সুযোগ কাজে লাগিয়েই আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি। অনেকেই এই জায়গায় আসতে চায়। ভাগ্যবানেরাই পৌঁছতে পারে। তাই মাটির কাছাকাছি থাকা খুব দরকার।”