মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তোলপাড়ের মধ্যেই নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সব রাজ্যে ১৩ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ, সেখানে যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় ফেরাতে এবার বুথ লেভেল অফিসারদের জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিল কমিশন।
সম্প্রতি কমিশনের তরফে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে একটি নতুন নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী এক মাস ধরে বিএলও-দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরনো এবং নতুন ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন বাদ পড়া যোগ্য ভোটারকে চিহ্নিত করে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। লক্ষ্য একটাই, কোনও যোগ্য নাগরিক যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের সময় যদি কোনও যোগ্য ব্যক্তি বা নতুন ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকতে দেখা যায়, তাহলে সেখানেই অন-স্পট ফর্ম-৬ পূরণ করিয়ে নিতে হবে বিএলও-দের। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘ব্যাপক ও বিশেষ অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে কমিশন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেই বিতর্কের মুখে এসআইআর হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে ফর্ম-৬-এর বদল বাতিল করেছিল কমিশন।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন কমিশনের অন্দরেই তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি অনুসন্ধানী রিপোর্টে দাবি করা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সঁধু এবং বিবেক জোশী অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের অন্ধকারে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, বেআইনিভাবে ফর্ম-৬ এর বয়ান বদল এবং এসআইআর-এর পর নাম বাদ দেওয়া ও যোগ করা নিয়ে গত ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন তাঁরা।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে কমিশন জানায়, মতবিরোধ থাকলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। উল্টে এই ইস্যুতে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সুপ্রিম কোর্টে কীভাবে ১৩ কোটি নাম বাদ গেল, তা নিয়ে সিট গঠন করে তদন্তের আর্জি জানিয়ে মামলাও হয়েছে। শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর দিনে দিল্লি, মুম্বই সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাগরিক সমাজ এবং বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুতে আন্দোলনে নামে। সেই আন্দোলনের আবহেই কমিশনের এই নতুন নির্দেশিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।