ওঙ্কার ডেস্ক: মালেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন বিশ্বের বহু দেশের নেতৃত্ব। এ দিন সম্মেলনে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রী ম্যাক্রো রুবিও বৈঠক সেরে ফেলেছেন। দীর্ঘ আলোচনায় উঠে আসে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ইস্যুগুলি।
সূত্রের খবর, বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি এবং পাকিস্তানকে ঘিরে দুই দেশের কৌশলগত অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বিশেষত রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ও জ্বালানি আমদানিকে কেন্দ্র করে।
বৈঠকের পর মার্কো রুবিও জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র “গভীর কৌশলগত সম্পর্ক” বজায় রাখবে এবং উভয় দেশই বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমে যাচ্ছে, যা পশ্চিমা জোটের জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের তেল আমদানি পুরোপুরি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এবং জাতীয় স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত অপরিহার্য।
জয়শঙ্কর বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানান, ভারত তার অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জ্বালানি নীতিতে কোনো দেশের চাপ মেনে নেবে না। তাঁর কথায়, “জাতীয় স্বার্থই ভারতের আলোচনার প্রধান সীমারেখা। আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের প্রয়োজন মেটানো এবং দেশের উন্নয়ন রক্ষা করা।” মার্কিন প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেলের আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়েছে, তবে নয়াদিল্লি সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
বৈঠকে পাকিস্তান প্রসঙ্গও উঠে আসে। ওয়াশিংটনের মতে, আফগানিস্তান সীমান্তে ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ভারত তার প্রভাব ব্যবহার করে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা নিক। জয়শঙ্কর বলেন, ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, তবে সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা রাষ্ট্রগুলির প্রতি কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল চলমান ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি। দুই দেশের মধ্যে শুল্ক, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও আলোচনাই সমাধানের পথ। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আমরা সেই সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাই।” তবে মার্কো রুবিওর মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীন অবস্থান পুরোপুরি মেনে নিতে এখনও প্রস্তুত নয়। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে আছে, তবে বৈশ্বিক নীতিতে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়াও জরুরি।” আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত কয়েকমাস যাবত দুই দেশের মধ্যে বারতে থাকা দূরত্ব কিছুটা হলেও কমতে পারে এই বৈঠকের পর। যদিও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি এবং পাকিস্তান-সংক্রান্ত কৌশলগত মতভেদ এখনো রয়ে গেছে।
