ওঙ্কার ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর সভায় তাঁর বাবাকে নিয়ে চর্চায় খুশি গোপন রাখেননি তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তবে নিজের আবেগকে প্রকাশ হতে দেননি। শনিবার মালদায় প্রধানমন্ত্রীর সভায় বাবা শিবেন্দুশেখর রায়কে নিয়ে এক গর্বের স্মৃতিচারণা হলেও তাতে ভেসে গিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বাস বেরোয়নি সুখেন্দু রায়ের গলায়। দুঁদে রাজনীতিকের মতোই প্রতিক্রিয়া ছিল পরিমিত।
বিজেপির রাজ্যসভাপতি হয়েই ইতিহাসের ন্যায়বিচার চেয়ে শিবেন্দুশেখর রায়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। শমীকের ভাষণে ভারতীয় জনসঙ্ঘের ইতিহাসে উঠে এসেছিল তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের বাবার নাম। এদিন মালদায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাতেও উপহার হিসেবে ফিরে এলেন শিবেন্দুশেখর। মালদহের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁরই একটি বড় বাঁধানো ছবি উপহার দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। স্বাধীনতার আগে বিশিষ্ট আইনজীবী হলেও মালদহ জেলায় আলাদা পরিচিতি ও খ্যাতি অর্জনে তাঁর অবদান স্মরণ করলেন তিনি। ৭৮ বছর আগে মালদার জন্য তাঁর ‘ভূমিকা’ নিয়ে মালদার মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শনিবার সে কথা স্মরণ করায় গর্বিত তৃণমূল সাংসদ।
ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত মুক্ত হওয়ার পর দেশ ভাগের কবলে মালদা যাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে না যায় তার জন্য লড়াই করেছিলেন শিবেন্দুশেখর। তখন তিনি হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত। প্রাক্ স্বাধীনতা পর্বে তিনি আইনজীবী হিসাবে মালদা সেই সূত্রে ঘনিষ্ঠ ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ পর্বে মালদাকে যখন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার দাবিতে অনড় মুসলিম লিগ, তখন শ্যামাপ্রসাদের দ্বারস্থ হয়ে নিজের জেলাকে ভারতে রাখার পথ খুঁজে বার করেছিলেন শিবেন্দুশেখর। মালদার সেই অগ্নিপুরুষের পুত্র হলেন সুখেন্দুশেখর রায়। রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ।
মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা—এই চার জেলার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ভারত পূর্ব পাকিস্তানের যন্ত্রণাময় ইতিহাস। ব্রিটিশ শাসকদের উদ্দেশ্য ছিল, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ভারতের এ পারে রাখা এবং মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া। কিন্তু সেই হিসেবনিকেশে সহজ ছিল না। মতভেদ ছিল প্রশাসনের অভ্যন্তরেও। অবশেষে মানচিত্রে সীমান্ত টেনে দেওয়া হয় এই চারটি জেলার গা ঘেঁষে। যার মনগড়া রেখাটানের দুর্ভোগ এখনও রয়ে গেছে সীমান্ত এলাকায়।
সেই ১৯৪৭-এর ১৮ অগস্টের মালদহ ছিল আতঙ্কের চিত্র। একদিকে পাকিস্তানি সেনার রুটমার্চ, অন্যদিকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবল সন্দেহ। তখন পরিত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন শিবেন্দুশেখর রায়। তাই এদিন মালদায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আমি সর্বপ্রথম মালদহের ‘মহান সুপুত্র’ শিবেন্দুশেখর রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে চাই— যাঁর উদ্যোগ ও অবদানের ফলেই মালদহের স্বতন্ত্র পরিচয় আজও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।”
