নিজস্ব সংবাদদাতা: দেশে জমানা পরিবর্তনের চেষ্টা করছে অশুভ শক্তি, তবে সেই চেষ্টা সফল হবে না। মহারাষ্ট্রের নাগপুরে আরএসএস-এর বিজয়া দশমী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এমনই দাবি করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত।
সংঘ প্রধানের বক্তব্য, ভারত উন্নতির পথে এগোচ্ছে বলেই তাকে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, গত কয়েক দশক ধরে ভারত যে গুরুত্বপূর্ণ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, তা আটকানো যাবে না বুঝেই কিছু শক্তি দেশকে এবং সংঘকে ভাঙার চেষ্টা করছে। ভাগবত বলেন, এটা আগেও হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।
বক্তৃতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে আনেন ভাগবত। ফ্রান্স, নেপাল এবং বাংলাদেশে সম্প্রতি সরকারের বিরুদ্ধে যে জনবিক্ষোভ দেখা গিয়েছে, তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পশ্চিম থেকে এক ঝড় আসছে, যা সংস্কৃতি, প্রচলিত ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে। এই ঝড় ধ্বংস চায়। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের স্বার্থে কিছু শক্তি বিভিন্ন দেশে এই ধরনের অরাজকতা তৈরি করছে।
ভাগবত আরও বলেন, দানবীয় শক্তি ভারত, হিন্দু এবং সংঘকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে। ক্ষমতা দখলের ইচ্ছা এবং জ্ঞানের অভাব থেকে কয়েকজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতা এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। তবে গণতন্ত্রে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করে তিনি বলেন, সমস্যা হলে আন্দোলন হবেই, কিন্তু তার লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাধান খুঁজে বের করা।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন চলছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোট এবং ককরোচ জনতা পার্টি-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ভোটচুরির অভিযোগে কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করছে। এই আবহে ভাগবতের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে রেজিম চেঞ্জের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সরকার অভিযোগ করছে বিরোধীরা জমানা পরিবর্তন করতে চায়, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা চাই, কিন্তু দমনপীড়ন চলতে থাকলে জমানা পরিবর্তনই হবে। এরপরই বিজেপি তার সমালোচনায় সরব হয়। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের পথে হেঁটে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে বিরোধীরা। এটা এসআইআর বা নির্বাচনী সংস্কারের লড়াই নয়, ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র। পাল্টা কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের উক্তি তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কাজই হল সরকারের বিরোধিতা করা এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো।