অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা : এসআইআর কাণ্ডে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ ডেকেছে কংগ্রেস। সেই সমাবেশে বিজেপি-বিরোধী দলগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করা হয়েছিল। সেই ডাকে সাড়া দিয়েছেন মমতা। সব ঠিক থাকলে শনিবার দুপুরের বিমানে দিল্লি যাবেন তিনি। সঙ্গে থাকার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও।
ভোটচুরির অভিযোগে ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলনে প্রথম থেকেই রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। গত ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা কর্মসূচিতে যন্তর মন্তরে ধর্নায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় সাউথ অ্যাভেনিউয়ের বাড়ির সামনে থেকে তাঁকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ।
১ নভেম্বরের মূল সমাবেশের আগে শুক্রবার দিল্লিতে মক পার্লামেন্টের আয়োজন করছে কংগ্রেস। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের বাড়িতে হবে ওই নকল সংসদের অধিবেশন। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের প্রতীকী অপসারণ দেখানো হবে। এই অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েও মমতার কাছে ফোন এসেছিল। সূত্রের খবর, মমতা একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই দলে থাকবেন লোকসভার সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যসভার সাগরিকা ঘোষ ও নাদিমুল হক।
এদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও এই পর্বে সামনে এসেছে। তৃণমূলের টিকিটে জেতা লোকসভার অধিকাংশ সাংসদই এখন আর মমতা শিবিরে নেই। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার-সহ কুড়ি জন যোগ দিয়েছেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায়। যদিও তাঁদের দলবদল এখনও লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন পায়নি। নিজেদের অবস্থান জানাতে দফায় দফায় স্পিকারের কাছে সময় চেয়েছেন সুদীপরা। অন্যদিকে নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে আবেদন জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেই আবেদনও ঝুলে রয়েছে।
দুই শিবিরকেই শুক্রবার নির্বাচন কমিশন তলব করেছে। দুপক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে বক্তব্য শোনার কথা। কিন্তু ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ ঋতব্রত শিবিরকে জবাব ও হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য আরও ১০ দিন সময় দিয়েছে। তারপর মমতা শিবিরকে পাল্টা হলফনামার জন্য আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার কমিশনের শুনানি হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমিশনের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত বৈঠক হলে দুই শিবিরই নিজেদের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। কালীঘাট শিবিরের হয়ে কমিশনে যাওয়ার কথা অভিষেক, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং আইনজীবীদের একটি দলের। পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে ঋতব্রত শিবিরও।