ওঙ্কার ডেস্কঃ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। সময়ের পলির পরতে সম্পর্ক, বিশ্বাস, আস্থা যেখানে গিয়েই ঠেকুক না কেন, রাজনৈতিক সহকর্মী, একদা সংগ্রামের সহযোদ্ধার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডলের একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘প্রবীণ রাজনীতিবিদ মুকুল রায়ের সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে। প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা-লগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। পরে তিনি ভিন্ন পথে যান, আবার ফিরেও আসেন। বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল। এই অভিজ্ঞ নেতা ও সহকর্মীর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।’ এই দুঃসময়ে মুকুলপুত্রের প্রতি বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, ‘শুভ্রাংশুকে বলব, মন শক্ত করো। এই সঙ্কটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।’
অন্যদিকে, মুকুল রায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, ‘প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি’র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই।’
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই সময়ে পাশে পেয়েছিলেন মুকুল রায়কে। কংগ্রেস ছেড়েছিলেন মুকুল রায়ও। তারপর থেকে তৃণমূলের অবিচ্ছেদ অংশ মুকুল রায়। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মমতার আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন মুকুল। শুরু থেকে ২০১৫ পর্যন্ত টানা তৃণমূলের সরবভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুকুল রায়। ২০১৫ থেকেই সম্পর্কে ভাটা পড়ে। ২০১৭ তে ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মশিবিরে যান মুকুল। তারপর ঘর ওয়াপাসি।
প্রায় তিন বছর বিজেপিতে কাটিয়ে যখন মুকুল তৃণমূলে ফিরেছিলেন, সেই দিন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছিলেন, ‘মুকুলের মতোবিরোধ কারও সঙ্গে ছিল না।’ কিন্তু দলের থেকে সেই পুরনো সম্মান আর ফিরে পাননি। মুকুল রায়ের প্রয়াণে একটা অধ্যায় শেষ হল। তৃণমূলের একসময়ের এক দাপুটে নেতার জীবনের শেষ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হল।