নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতার ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের যুব ও মহিলা সংগঠনের একাধিক কর্মসূচির জন্য তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ। নিয়ম অনুযায়ী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার বেশি এমন কাঠামো রাখা যায় না। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মঞ্চটি অক্ষত অবস্থায় রয়ে যায়। অবশেষে সোমবার সেনাবাহিনীর তরফে সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, খুলে ফেলা হয় মঞ্চটিকে।
সেনার অফিসাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৃণমূল নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন, ময়দান ও মেয়ো রোড এলাকা সেনার নিয়ন্ত্রণাধীন, তাই দীর্ঘদিন ধরে কাঠামো রাখা নিয়মবিরুদ্ধ। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা হলেও কোনও সমঝোতা হয়নি। সেনার কর্মীরা নিজস্ব উদ্যোগেই মঞ্চ খোলার কাজ শুরু করেন।
এই ঘটনা ঘিরেই শহরে চড়তে শুরু করে রাজনৈতিক উত্তাপ। মঞ্চ ভাঙার খবর পেয়ে মেয়ো রোডে সরাসরি পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশেই সেনাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রায় ২০০ সেনা আমাকে দেখে ছুটে পালাচ্ছিল। আমি তো ওঁদের উদ্দেশে বলেছি, পালাচ্ছেন কেন? আমি সেনার বিরুদ্ধে নই। সেনার জন্য গর্বিত। কিন্তু এটা তো প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আর বিজেপির কাজ। ওঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আমাদের মঞ্চ ভাঙছে।” মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “বাকি সব এজেন্সিকে তো বিজেপি ললিপপ বানিয়ে ফেলেছে। ভেবেছিলাম সেনাকে পারবে না। কিন্তু ওখানেও হাত লাগিয়ে দিল।”
তৃণমূল শিবিরের দাবি, এই মঞ্চ ছিল বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির উপর আক্রমণের প্রতিবাদে চলমান কর্মসূচির প্রতীক। সেই আন্দোলন দমন করার জন্য বিজেপি সেনাকে সামনে এনে কাজ করাচ্ছে। মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ছেলেখেলা করলে বাংলা চুপ করে বসে থাকবে না। আন্দোলন আরও বড় আকারে হবে।”
অন্য দিকে সেনার বক্তব্য, অনুমতি নেওয়া হয়েছিল দু’দিনের জন্য। কিন্তু সেই অস্থায়ী মঞ্চকে স্থায়ী ধর্নাস্থলে পরিণত করা হচ্ছিল। তাই নিয়ম মেনে কাঠামো খোলা হয়েছে। ইস্টার্ন কমান্ডের বিবৃতিতেও জানানো হয়, অনুমতি অতিক্রম করায় মঞ্চ সরানো ছাড়া উপায় ছিল না। ঘটনার পর সেনা জওয়ানরা বিতর্ক এড়াতে সরে গেলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “সত্যিই যদি নিয়ম ভেঙে মঞ্চ তৈরি হয়ে থাকে, তবে সেনা কেন আমাদের আগে জানাল না? কলকাতা পুলিশকে বা অরূপ বিশ্বাসকে জানালে আমরা নিজেরাই মঞ্চ ভেঙে দিতাম।”
