ওঙ্কার ডেস্ক: মুসলিম মহিলার সঙ্গে প্রেম হয়েছিল ইনস্টাগ্রামে। কিন্তু সেই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন যমজ বোন, আর সেই রাগে সহোদরাকে ৮৪ বার ছুরিকাঘাত করে খুন করলেন এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। শুধু তাই নয়, মাকেও অভিযুক্ত ছুরিকঘাত করে খুনের চেষ্টা করে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রিপোর্ট অনুসারে, ধৃত যুবকের নাম হার্দিক। ২৫ বছর বয়স তাঁর। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার হার্দিকের এই হত্যাকণ্ডে বিস্মিত তদন্তকারী, ডাক্তার এবং প্রতিবেশীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বৌদ্ধ বিহার এলাকায় তাদের বাসভবনে হার্দিক তাঁর যমজ বোন হিমশিখা (২৫)কে নির্মমভাবে খুন করে। তদন্তে জানা গিয়েছে, হার্দিক প্রায় দেড় বছর ধরে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পুনের এক মুসলিম মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। দুজনে অনলাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতেন। বাস্তব জীবনে কখনও দেখা না হওয়া সত্ত্বেও দুজন পরস্পরকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। সার্কেল অফিসার (সিভিল লাইনস) কুলদীপ কুমার বলেন, ‘তাঁরা কেবল ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলেন। কখনও সশরীরে দেখা করেননি।’ তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, হার্দিকের যমজ বোন হিমশিখা গুরুগ্রামে একটি আইটি ফার্মে চাকরি করতেন। কাজের পাশাপাশি এমবিএও করছিলেন তিনি। ভাইকে অনলাইনে সম্পর্কে না জড়িয়ে কাজে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে বোনকে হত্যার পর, হার্দিক তাঁর মা নীলিমাকে বাড়িতে ডাকেন। নীলিমা একটি বেসরকারি বীমা সংস্থায় কর্মরত। বাড়ি পৌঁছে মহিলা দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়ে রয়েছেন তাঁর মেয়ে। কিছু বলে ওঠার আগেই নীলিমার উপর ছুরি নিয়ে হামলা করেন গুণধর পুত্র। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুসারে, হিমশিখার শরীরে ৮৪টি ছুরিকাঘাতের ক্ষত ছিল। ডাক্তাররা তাঁর ঘাড়, বুক, পেট, বাহু, পা, কাঁধ এবং মুখে গভীর ক্ষত দেখতে পেয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর হৃদপিণ্ড, লিভার এবং কিডনি-সহ দেহের ভিতরের অঙ্গগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তে নেমে হার্দিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
