ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তান বারবার বলে এসেছে যে জইশ-ই-মহম্মদের শীর্ষ নেতা মাসুদ আজহার তাদের মাটিতে নেই। কিন্তু ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ক্যামেরায় সম্প্রতি মাসুদকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে-র এক বিশেষ প্রতিবেদন।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, স্কার্দু এলাকার সাদপাড়া রোড অঞ্চলে মাসুদের অবস্থান চিহ্নিত হয়েছে। এই এলাকায় একাধিক মসজিদ, মাদ্রাসা এবং সরকারি গেস্ট হাউস রয়েছে যা একটি কুখ্যাত জঙ্গি নেতার জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কার্যত আদর্শ। পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য গিলগিট-বালটিস্তান পরিচিত হলেও মাসুদের মতো আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত সন্ত্রাসবাদীর এখানে লুকিয়ে থাকা নতুন করে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টো প্রকাশ্যে বলেছিলেন, মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে আত্মগোপন করে আছেন। সেই সঙ্গে ভারতের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, যদি প্রমাণ দেখানো যায় যে মাসুদ পাকিস্তানে রয়েছেন, তাহলে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এবার গোয়েন্দা সূত্রের ভিডিও ফুটেজই সেই দাবিকে কার্যত মিথ্যা প্রমাণ করল।
গোপন তথ্য বলছে, মাসুদের মূল শক্ত ঘাঁটি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের বহওয়ালপুরে। সেখান থেকে স্কার্দুর দূরত্ব প্রায় এক হাজার কিলোমিটার। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ এতটা দূরে গিলগিট-বালটিস্তানের মতো পর্যটনপ্রধান অঞ্চলে মাসুদের আগমন কি নিছক লুকিয়ে থাকার কৌশল, নাকি এর পেছনে রয়েছে নতুন নাশকতার ছক? ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদ আজহার শুধু ভারতের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পক্ষেও বড় হুমকি। পঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা থেকে শুরু করে পুলওয়ামার আত্মঘাতী বিস্ফোরণ একের পর এক বড় জঙ্গি হামলার মূলচক্রী এই জইশ নেতা। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনা মাসুদের ঘাঁটিতে একবার প্রত্যাঘাত চালিয়ে ছিল, যেখানে তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য ও সহযোগী নিহত হয়েছিল। তবু মাসুদ যে আজও সক্রিয়, তা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
শ্রীনগর থেকে স্কার্দু সরাসরি আকাশপথে মাত্র ১৬৫ কিলোমিটার হলেও সড়কপথে যেতে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। ভৌগোলিক দিক থেকে কঠিন এই অঞ্চল সন্ত্রাসবাদীদের গা-ঢাকা দেওয়ার জন্য উপযুক্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখানকার মাদ্রাসা এবং স্থানীয় স্তরের প্রশাসনিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাই জইশ প্রধানকে অনায়াসে আড়াল রাখতে সহায়তা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাসুদ আজহারকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দেখা যাওয়া শুধু পাকিস্তানের দ্বিচারিতা নয়, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ রুখতে তাদের সদিচ্ছার অভাবকেই ফের স্পষ্ট করছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাঁর উপর নজরদারি আরও জোরদার রেখেছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও বড় সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র সফল হতে না পারে।
