নিজস্ব সংবাদদতা, নয়াদিল্লি: দলের অন্দরেই নানা মুখ, নানা মত। ইন্ডিয়া জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর! যেখানে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নেতৃত্বে হাজার হাজার সমর্থক সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করলেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, সেখানে দলেরই সাংসদের মুখে বিজেপি সরকারের ‘পরিণত’ আচরণের প্রশংসা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে থারুর বলেন, “কংগ্রেসের দিক থেকে দেখলে সমর্থকদের অভূতপূর্ব উপস্থিতি ছিল। সাধারণ মানুষের মনে ভয় থাকার কথা ছিল যে শনিবার-রবিবারের মতো পুলিশ আবার কঠোর হবে। কিন্তু এবার সরকার ও পুলিশের কৃতিত্ব, তারা কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। ব্যারিকেড ছিল, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পুলিশ মোতায়েন ছিল, কিন্তু পুরো প্রতিবাদে তারা কোনও হস্তক্ষেপ করেনি। আমার মতে, সরকারের এই প্রতিক্রিয়া ছিল পরিণত ও বুদ্ধিমানের কাজ।”
প্রসঙ্গত, শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি প্রতিবাদীকে আটক করে পুলিশ। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও আটক করা হয়। যদিও পরে সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়, কিন্তু শনি ও রবিবার দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট বিক্ষোভ চলতে থাকে। থারুরের মতে, সোমবার ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে সেই ছবি দেখা যায়নি।
কংগ্রেসের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিযোগিতার প্রশ্ন উড়িয়ে দেন থারুর। তিনি বলেন, “এটা একেবারেই হাস্যকর তুলনা। আমরাই বিজেপির একমাত্র জাতীয় বিরোধী দল। সরকার আজ যেভাবে আচরণ করেছে, তার পিছনে রবিবার সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যও কাজ করেছে।” তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলার বড় অবনতি না হলে হস্তক্ষেপ না করার যে অবস্থান আদালত নিয়েছিল, সরকার সেটাই মেনেছে।
থারুর আরও বলেন, কংগ্রেস ও সিজেপির মধ্যে কোনও লড়াই নেই। তিনি জানান, সিজেপি বিক্ষোভের মুখ হয়ে ওঠা আইসা সভাপতি নেহা বোরা সোমবার ইন্ডিয়া জোটের মিছিলেও ছিলেন। একই বাসে ছিলেন মল্লিকার্জুন খড়গে ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। থারুর বলেন, “আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমার সঙ্গে সেলফি তুলেছেন। অত্যন্ত সাহসী মেয়ে। আমরা সবাই একই নীতির জন্য লড়ছি।”