ওঙ্কার ডেস্ক: প্রায় দুই বছর আগে সাহারা মরুভুমিতে পওয়া দুটি উল্কাপিন্ডের আসল উতসস্থল জানতে পারল মহাকাশ বিজ্ঞানী মহল। সুত্রের খবর ঐ দুটি উল্কা পিন্ড এসেছে সদূর বুধ গ্রহ থেকে। আর এটা নিয়েই মাতামাতি শুরু হয়ে গিয়েছে মহাকাশ গবেষনাগারের অন্দরে কারন বুধ থেকে এই প্রথম কোনো উল্কা পৃথিবীর বুকে এসে পরেছে।
প্রথমে যখন এই উল্কা নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা শুরু হয় তখন কেউই ভাবতে পারেননি এই মহাজাগতিক পাথর দুটি এক দিন পৃথিবীর বিজ্ঞানীমহলে এতটা আলোড়ন ফেলবে। বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা, রাসায়নিক বিশ্লেষণ আর তুলনামূলক গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা জানালেন এই উল্কাপিণ্ডের উৎস আর কোথাও নয়, সৌরজগতের সবচেয়ে রহস্যময় ছোট্ট গ্রহ বুধ!বৃহৎ জ্যোতির্বিজ্ঞান মহলে এই ঘোষণা কার্যত নতুন এক ইতিহাস। কারণ এর আগে চাঁদ আর মঙ্গল থেকে আসা ১,১০০-র বেশি উল্কাপিণ্ডের সন্ধান মিললেও বুধ থেকে আসা কোনও শিলাখণ্ডের অস্তিত্ব কখনও প্রমাণিত হয়নি। ফলে সাহারার বুকে পাওয়া এই জোড়া উল্কাপিণ্ডই বুধ থেকে পৃথিবীতে আসা প্রথম চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই দু’টি উল্কাপিণ্ডের নাম রাখা হয়েছে ‘নর্থ-ওয়েস্ট আফ্রিকা ১৫৯১৫’ এবং ‘ক্সার ঘিলানে ০২২’। ব্রিটেনের ওপেন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী বেন রাইডার-স্টোকস এবং তাঁর দল সম্প্রতি ইকারাস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, এই পাথরগুলির রাসায়নিক ও খনিজ গঠন, ঘনত্ব, এবং সূক্ষ্ম স্তর বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে এগুলি সূর্যের খুব কাছের কোনও গ্রহের অংশ, যার সঙ্গে বুধের পরিচিত বৈশিষ্ট্যের অভূতপূর্ব মিল রয়েছে।
বুধ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নতুন কিছু নয়। সূর্যের এত কাছে অবস্থান এবং অত্যধিক তাপ ও বিকিরণ বুধে সরাসরি কোনও যান পাঠানোকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। ১৯৭৩ সালে নাসার ‘মেরিনার ১০’ এবং তার তিন দশক পর ‘মেসেঞ্জার’ কেবল এই দু’টি মানববিহীন যানই এখন পর্যন্ত বুধের কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছে। তবে সেখান থেকে সরাসরি পাথরের নমুনা পৃথিবীতে আনা সম্ভব হয়নি কখনওই। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে সাহারার এই জোড়া উল্কাপিণ্ড। বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহপৃষ্ঠে গ্রহাণুর আঘাতে পাথরের টুকরো ভেঙে মহাশূন্যে ছিটকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সূর্যের এত কাছের গ্রহ থেকে সেই টুকরো পৃথিবী পর্যন্ত আসা বিরলতম ঘটনা। সূর্যের প্রচণ্ড মাধ্যাকর্ষণ টপকে পৃথিবীতে উল্কাপিণ্ডের পৌঁছনো যে কতটা কঠিন, তা বুধের ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রযোজ্য। ফলে এত দিন বুধ থেকে উল্কাপিণ্ডের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাই এই মহাজাগতিক পাথারকে ঘিরে বৈজ্ঞাোনিক মহলে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছে।
