নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: তারাপীঠ মন্দির দর্শন করে ফেরার পথে বীরভূমের মল্লারপুরে আটক করা হলো কাওয়ারিয়ার যাত্রীবাহী বাস। জানা যাচ্ছে দিনভর আটকে রাখা হয়েছিলো , শিশু,মহিলা সহ প্রায় ৬০ জন যাত্রীবাহী বাসটিকে । খাবার ও পানীয় জল না পাওয়ায়, ১৪ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ আটকে পড়া বাসযাত্রীদের।
জানা গিয়েছে, উওরপ্রদেশের গোরোখপুর থেকে একটি বেসরকারী বাস রিজার্ভ করে, তারাপীঠ মন্দির এসেছিল। সেখান থেকে বাসটি দেওঘর ফিরছিল। সেই সময় বীরভূমের মল্লারপুরের কাছে রাজ্য পরিবহণ দফতর বাসটিকে আটক করে বাসের পারমিট দেখতে চান। বাসের চালক পারমিট দেখালে পরিবহন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ওই পারমিটকে জাল পারমিট বলেন । এরপর বাসটিকে ১,৯৪,৪৪৫ টাকা ফাইন করেন রাজ্য পরিবহণ দফতরের আধিকারিক। সেই ফাইনের টাকা নাদেওয়ায় যাত্রী বোঝাই বাসটিকে দিনভর আটকে রেখে দেয় পরিবহন দফতরের আধিকারিকেরা। খবর জানাজানি হতেই আসরে নামে এলাকার বিজেপি কর্মীরা। তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করলেও বাসটিকে ছাড়তে রাজী হয়নি তারা।
এদিকে যাত্রীবোঝাই বাসটিকে মল্লারপুরের কৃষাণমান্ডিতে পার্কিং করে রেখে দেয় পরিবহন দফতর। বাসযাত্রীদের অভিযোগ, তাদের জন্য পানীয় জল ও খাবারের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। দিনভর পানীয় জল ও খাবার না পেয়ে রাত দশটা নাগাদ ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু করেন বাসের যাত্রীরা। অবরোধের খবর পেয়ে মল্লারপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয়। পরে বীরভুম জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে বাসের চালকের কাছে মুচলেখা জমা নিয়ে রাত পৌনে বারোটা নাগাদ বাসটিকে ছাড়া হয়।
বাসের চালকের অভিযোগ, কোচবিহারের কাছে ইসলামপুরে তারা সরকারি চেকপোষ্ট থেকে টাকা দিয়ে এরাজ্যে ঢোকার পারমিট সংগ্রহ করেছেন। সেই পারমিট জাল হলে সেখানে কিভাবে জাল পারমিট চক্র চলছে ? বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা জয়শঙ্কর সিনহার দাবী, ভিনরাজ্যের পুণ্যার্থীদের অযথা এরাজ্যে হয়রানি করা হচ্ছে।
