ওঙ্কার ডেস্ক: আন্ধ্রপ্রদেশে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নদিয়ার তেহট্টে। নিহত শ্রমিকের নাম রাজু তালুকদার, বয়স ৩৭। তিনি কয়েক মাস আগে নিজের ভাই এবং এলাকার আরও কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে বিশাখাপত্তনমে গিয়েছিলেন রোজগারের আশায়।
সেখানেই নির্মাণকাজ করতেন তিনি। অভিযোগ, ২৯শে অগস্ট এক স্থানীয় শ্রমিকের মোবাইল ফোন চুরি যাওয়ার পর সন্দেহের তির ওঠে রাজু এবং তাঁর ভাইয়ের দিকে। সেই সন্দেহকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু শ্রমিক তাঁদের উপর নৃশংস হামলা চালায়। ধারাল অস্ত্র দিয়ে মাথা ও পেটে একাধিক কোপ মারা হয় রাজুকে, তাঁর ভাইকেও মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে রাজুর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় পরিবার তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে, বিশাখাপত্তনম স্টেশনে পৌঁছনোর আগেই হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শুক্রবার রাতে তাঁর মৃতদেহ পৌঁছয় নদিয়ার তেহট্টে। মৃতের পরিবার দাবি করেছে, শুধুমাত্র মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে নিরপরাধ রাজুকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিকরা অন্য রাজ্যে গিয়ে প্রায়শই বৈষম্যের শিকার হন, কাজের সুযোগ পেলেও নিরাপত্তা মেলে না। এই ঘটনার পর গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, শুধুমাত্র সন্দেহের বশে একজন শ্রমিককে এভাবে প্রাণ দিতে হল এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা।
