ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বর্তমানে দুই দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন জাপানে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই সফর ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এ বারই অষ্টমবার জাপান সফরে গেছেন তিনি। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ১৫তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করা। টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা।
এই সফরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় নিঃসন্দেহে মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল প্রকল্প। এ বার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে জাপানের সর্বাধুনিক ই-১০ শিনকানসেন বুলেট ট্রেন প্রযুক্তি। ভারত ইতিমধ্যেই পুরনো ই-৫ মডেল গ্রহণ করেছিল। তবে নতুন প্রজন্মের ট্রেন আনার ফলে দ্রুতগতি ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত হবে। আলোচনা চলছে নিজের দেশেই ট্রেনের কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি করার বিষয়ে। ২০৩০ সালের মধ্যেই প্রকল্প চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই সফরে ভারতের জন্য আসতে চলেছে বড় সুখবর। জাপান আগামী দশকে ভারতের জন্য ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিতে চলেছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে যৌথ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি, দুই দেশ নতুন ইকোনমিক সিকিউরিটি প্যাক্ট স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে, যাতে বিরল খনিজ সম্পদ এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নকে কেন্দ্র করা হবে।
ভারত ও জাপানের কৌশলগত সম্পর্ক এ বার আরও গভীর হওয়ার পথে। বিশেষত কোয়াড জোটের (ভারত, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া) কাঠামোয় সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেই নজর দুই দেশের। যৌথভাবে সামরিক প্রশিক্ষন, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অস্ত্রশিল্পে উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা এগোবে এই বৈঠকে।
এদিন ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “জাপানের উন্নত প্রযুক্তি আর ভারতের মানবসম্পদ মিলে এ শতাব্দীতে প্রযুক্তির নতুন বিপ্লব ঘটাতে পারে।” মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল প্রকল্পকে তিনি দুই দেশের সহযোগিতার এক প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন মোদীয়া।
টোকিওতে ভারতীয় সম্প্রদায়ের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয় ঐতিহ্যবাহী রাজস্থানি সাজে সজ্জিত জাপানি শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় প্রবাসীদের প্রশংসা করে বলেন, বিদেশে থেকেও তারা ভারতীয় সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখেছেন এবং জাপানি সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদীকে উপহার দেওয়া হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দারুমা পুতুল, যা সৌভাগ্যের প্রতীক এবং যার শিকড় ভারতের তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরমের বৌদ্ধ ভিক্ষু বোধিধর্মের সঙ্গে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপ ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মাঝখানে, ভারতের এই জাপান সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে জাপানি বিনিয়োগ ভারতের শিল্প ও প্রযুক্তি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে, অন্যদিকে কৌশলগত সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে।
