ওঙ্কার ডেস্ক: হায়দরাবাদের ভয়াবহ পশুহত্যার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তেলঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলার ইয়াচারাম এলাকার একাধিক গ্রামে কয়েক দিনের ব্যবধানে শতাধিক পথকুকুরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পশুপ্রেমীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই এই কুকুরগুলিকে বিষ খাইয়ে মারা হয়েছে। গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় রাস্তায়, মাঠে এবং ঝোপঝাড়ে একের পর এক কুকুরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে পশু কল্যাণ সংগঠনের কর্মীরা এলাকায় পৌঁছে মৃত ও অসুস্থ কুকুরগুলির নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক তদন্তে বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, কুকুরের সংখ্যা কমানোর অজুহাতে স্থানীয় স্তরে এই নির্মম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ একটি মামলা রুজু করেছে এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের এক জনপ্রতিনিধি সহ কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার সময়কাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এর কয়েক দিন আগেই তেলঙ্গানার বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক পথকুকুর হত্যার অভিযোগ উঠেছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় রাজ্য জুড়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। পশুপ্রেমী সংগঠনগুলির বক্তব্য, আইন অনুযায়ী পথকুকুর নিধন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র বৈধ উপায় হল টিকাকরণ ও নির্বীজন। অথচ প্রশাসনের একাংশ সেই নিয়ম উপেক্ষা করে নৃশংস পথ বেছে নিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের দাবি, বিষ প্রয়োগের ফলে শুধু কুকুর নয়, অন্য প্রাণী এবং পরিবেশও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়, তবে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরপর এই ধরনের ঘটনায় তেলঙ্গানায় পথকুকুর সুরক্ষা ও পশুকল্যাণ আইন কার্যকর করা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পশু অধিকার আন্দোলনকারীদের মতে, কঠোর শাস্তির নজির না তৈরি হলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।
