পার্টি অফিস দখল ও ডেপুটেশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুকুন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর থানা চত্বর। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন প্রাক্তন IPS তথা প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। পোে এই গোটা ঘটনায় সমাজমাধ্যমে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। প্রশ্ন তোলেন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।
রক্তাক্ত অবস্থায় হুমায়ুন কবীরের একটি ছবি পোস্ট করে এক্স মাধ্যমে মহুয়া লেখেন, “বাংলায় আসলে কী চলছে? পূর্ব যাদবপুর থানার গেটের সামনে বিজেপি দুষ্কৃতীরা প্রাক্তন IPS ও প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবীরের উপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে, অথচ ৫০ জন পুলিশকর্মী দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। তিনি এখন থানার ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় বন্দি, আর দুষ্কৃতীরা থানার গেট ভাঙার চেষ্টা করছে।” তাঁর এই পোস্টের পরই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে যাদবপুরে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে হামলা ও মুকুন্দপুরে গন্ডগোলের প্রতিবাদে পূর্ব যাদবপুর থানায় ডেপুটেশন ও মিছিলের ডাক দেয় মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মীরা। মিছিল শুরু হতেই এক যুবক সামনে এসে বচসা শুরু করে, তাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরাই প্রথমে অশালীন মন্তব্য করেন।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়। মমতাপন্থী নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ও হুমায়ুন কবীর থানায় পৌঁছতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। রাত ৮টা নাগাদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় থানার ভিতরে ঢুকলে বাইরে জমায়েত করেন বিজেপি কর্মীরা। শুরু হয় তুমুল ধস্তাধস্তি ও মারপিট। সেই সময় মুখে গুরুতর চোট পান হুমায়ুন কবীর। পুলিশ দ্রুত তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। রাজ্যসভায় দলের মুখ্য সচেতক ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেন, মমতা তৃণমূলের পরিচিত মুখ উপাসনা চৌধুরীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে এবং পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের পাল্টা দাবি, মমতাপন্থী কর্মীরাই এলাকায় অশান্তি ছড়াচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুকুন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।