ব্রেস্ট ক্যান্সার বা স্তন ক্যান্সার নারীদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত ক্যান্সার। তবে এটিকে শুধু একটি প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। রোগটি কতটা গুরুতর হবে, তা নির্ভর করে ক্যান্সারের ধরন, আকার, শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়েছে কি না এবং কত দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হয়েছে তার ওপর। তাই ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শনাক্তকরণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।
স্তনে নতুন কোনো গাঁট বা শক্ত অংশ অনুভূত হওয়া সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। তবে সব গাঁট ক্যান্সার নয়। স্তনের আকার বা আকৃতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, স্তনের ত্বকে টান পড়া বা কমলার খোসার মতো চেহারা, স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, অস্বাভাবিক বা রক্তমিশ্রিত তরল বের হওয়া এবং বগলের কাছে গাঁট বা ফুলে যাওয়াও সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে। কখনও কখনও স্তনে ব্যথা থাকতে পারে, যদিও শুধু ব্যথা থাকলেই ক্যান্সার হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লক্ষণ না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকতে পারে। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে উপযুক্ত স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন কয়েকদিন ধরে থাকলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসার পদ্ধতি রোগের পর্যায় ও ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করার পর চিকিৎসক অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি বা এসবের সমন্বয় বিবেচনা করতে পারেন। প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনা এক নয়।
সবচেয়ে বড় বার্তা হলো—ব্রেস্ট ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া মানেই সব শেষ নয়। দ্রুত পরীক্ষা, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তাই স্তনে নতুন বা অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ পথ।