নিজস্ব সংবাদদাতা: চাকরির দাবিতে ডাকা নবান্ন অভিযানে রবিবার উত্তাল হয়ে উঠল হাওড়া শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথ। তবে হাওড়া স্টেশন থেকে শুরু হলেও, শেষ পর্যন্ত চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিহারাদের মিছিল আটকে গেল তেলকলঘাট রোডে। পুলিশের বাধায় নবান্নমুখো যাত্রা মাঝপথেই থেমে গেল। তা সত্ত্বেও, রাস্তার উপরেই বসে পড়ে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন আন্দোলনকারীরা।
হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে আগেই এই জমায়েতকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল। রবিবার সকাল থেকেই শহরের একাধিক প্রবেশপথে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২,০০০ পুলিশকর্মী, সঙ্গে ছিল জলকামান, ড্রোন এবং বিশাল ব্যারিকেড। রেল মিউজিয়াম সংলগ্ন এলাকা, ফরশোর রোডের রামকৃষ্ণপুর ঘাট গেট, বঙ্গবাসী মোড়, কাজিপাড়া মোড় ও নবান্ন সংলগ্ন এলাকাকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। তবে চাকরির দাবিতে রাস্তায় নামা আন্দোলনকারীরা পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাওড়া স্টেশন থেকে মিছিল শুরু করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, কয়েক হাজার মানুষ তেলকলঘাট পর্যন্ত মিছিল করে পৌঁছান। কিন্তু সেখানেই লোহার ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। এরপর বিক্ষোভকারীরা রাস্তার উপরেই বসে পড়েন ও অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশের তরফে বারবার মাইকে ঘোষণা করা হয়, এই জমায়েত বেআইনি এবং অবিলম্বে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা কোনওভাবেই সরতে রাজি নন। সূত্রের খবর, এক আন্দোলনকারী পুলিশের নিষেধ অগ্রাহ্য করে ব্যারিকেড টপকে নবান্নমুখো হওয়ার চেষ্টা করলে, সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে আটক করে শিবপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারাদের এই বৃহত্তর আন্দোলনে অংশ নিয়েছে একাধিক সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, সরকারি কর্মচারী পরিসর-সহ আরও বহু সংগঠন। এখনও পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান ঘিরে উত্তেজনা চরমে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চললেও, আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত প্রতিবাদ চলবে।
হাওড়া শহরের বিভিন্ন অংশে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেছে। অফিস টাইমে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যানজট তৈরি হয়েছে। নবান্ন অভিযানের প্রভাব পড়েছে সাঁতরাগাছি, হাওড়া মৌলালি, দাশনগর এবং শরৎ সদনের আশপাশের অঞ্চলেও
নবান্ন অভিযানের আগেই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে রয়েছে গোটা রাজ্য। এখন দেখার, সরকার ও আন্দোলনকারীদের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় এই আন্দোলন।
