নিজস্ব সংবাদদা: নবান্ন অভিযান ঘিরে ফের আইনি লড়াইয়ের পথে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনিক ভবন ‘নবান্ন’ ২০১৩ সালে হাওড়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিবছর রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ‘নবান্ন অভিযান’ কর্মসূচিতে হাওড়া কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশি ব্যারিকেড, যান নিয়ন্ত্রণে জিটি রোড, ফরশোর রোড, হাওড়া ব্রিজ, কোনা এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি স্থবির হয়ে যায়।
সুভাষবাবুর দাবি, প্রতিদিন যেখানে হাওড়া শহরে ২৫ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন, সেখানে এই ধরনের আন্দোলনের জেরে সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার ভঙ্গ হচ্ছে। মেট্রো, লোকাল ট্রেন, বাস কোনও দিকেই স্বাভাবিক চলাচল থাকে না। এর আগে তিনি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, হাওড়ার জেলাশাসক এবং পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁর অভিযোগ, এমন আন্দোলন রুখতে কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে জনগণের করের টাকায় যা ব্যয় হচ্ছে পুলিশ মোতায়েন, ব্যারিকেড, পরিকাঠামোর ক্ষতিপূরণে। অথচ হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “গণতান্ত্রিক অধিকার আছে ঠিকই, কিন্তু তার দোহাই দিয়ে সংবিধানপ্রদত্ত নাগরিক অধিকার হরণ করা যায় না।”
হাওড়ার বিদ্যমান সমস্যা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। অবৈধ টোটো চলাচল, হকার রাজ, জল জমা, রাস্তার গর্ত, অপরিকল্পিত পার্কিংয়ের পাশাপাশি ‘নবান্ন অভিযান’ নাগরিক জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে বলেই দাবি তাঁর। উল্লেখ্য, এর আগেও হাওড়ার মঙ্গলাহাট বন্ধ হওয়ায় হাট ব্যবসায়ীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলায় আদালত জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এবার পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত এক ধাপ এগিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন।
