ওঙ্কার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনুষ্ঠিত এআই সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিল্লির ভারত মণ্ডপম-এ আয়োজিত কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন চলাকালীন হঠাৎই পোষাক খুলে বিক্ষোভ দেখান দেশের যুব কংগ্রেসের কয়েকজন কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক নীতিগত বিষয়ে আপস করছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চকে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এইভাবে প্রতিবাদ নিয়ে সরব হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ খুললেন এবিষয়য়ে। তিনি কড়া ভাষায় তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেসের।
শনিবার এআই সম্মেলন চলাকালীন বিক্ষোভকারীরা সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের হাতে এমন টি-শার্টও দেখা যায়, যাতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ছিল। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তারক্ষীরা হস্তক্ষেপ করলে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে ‘নোংরা ও নগ্ন রাজনীতির’ মঞ্চে পরিণত করেছে কংগ্রেস। তাঁর বক্তব্য, দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও বৈশ্বিক সাফল্যকে কিছু রাজনৈতিক দল সহ্য করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে এই ধরনের প্রতিবাদ দেশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির একাধিক নেতা কংগ্রেসের সমালোচনায় সরব হন। তাঁদের দাবি, এ ধরনের আচরণ দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং দেশের মর্যাদার পরিপন্থী। বিরোধী শিবিরের মধ্যেও এই পদ্ধতি নিয়ে অস্বস্তি দেখা যায়। অখিলেশ যাদব সহ কিছু নেতা বলেন, প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এমন কায়দা সমর্থনযোগ্য নয়। এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।
সমগ্র ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আবহে এই বিক্ষোভ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো মঞ্চে রাজনৈতিক প্রতিবাদের সীমা কোথায় টানা উচিত।
