ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্ত ঘিরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের আশঙ্কার মধ্যেই বড়সড় সাফল্যের দাবি করল দিল্লি পুলিশ। রাজধানীতে নাশকতার ছক ভেস্তে দিয়ে ছয়জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল সেলের আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ভারতে একাধিক নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গোপন নজরদারি চালানোর পর অভিযুক্তদের গতিবিধি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য হাতে আসে। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী, যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তানে বসে শাহজাদ ভাট্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ভারতে সক্রিয় অপরাধী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত। সেই সূত্র ধরেই ধৃতদের সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে ওঠে বলে পুলিশের অনুমান। তদন্তকারীদের দাবি, ভারতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর হামলা এবং জনবহুল এলাকাকে লক্ষ্য করে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ধৃতদের প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদা ছিল। কেউ অস্ত্র সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল, কেউ অর্থের জোগান দিত, আবার কেউ নতুন সদস্য নিয়োগ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করত। গোটা চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করছিল বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। তাদের খোঁজে দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গেও তথ্য ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে, যাতে আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দিকটি খতিয়ে দেখা যায়। এই চক্রের সঙ্গে সীমান্তপারের জঙ্গি সংগঠন বা অপরাধচক্রের আরও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থের উৎস, অস্ত্র সরবরাহের রুট এবং বিদেশ থেকে নির্দেশ আসার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যেই ধৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনের পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।