ওঙ্কার ডেস্ক: নির্যাতনের বিরল চিত্রনাট্য। এই নিয়ে দিল্লিতে সোমবার কার্যত এক ক্রাইমথ্রিলারের সাসপেন্স তৈরি হয়েছিল। যার জন্য স্বয়ং উপ রাজ্যপাল বি কে সাক্সেনাকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়। উত্তাল হয় রাজধানীর জনসমাজ ও সমাজ মাধ্যম। তার পরেই জানা যায়, অভিযোগকারী তরুণী নিজেই নিজের হাতে অ্যাসিড ঢেলেছিলেন। আর গোটা ঘটনার ছক কষেছিলেন তাঁর বাবা।
উল্লেখ্য, রবিবার উত্তর-পশ্চিম দিল্লির অশোক বিহারে এক তরুণীর উপর অ্যাসিড দিয়ে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গোটা ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে নেমে জানা যায়, অভিযোগকারী তরুণী মিথ্যা বয়ান দিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, কলেজ যাওয়ার পথে তিন যুবক মিলে তাঁর পথ আটকেছিলেন। আর তার পরেই তাঁকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোঁড়া হয়। নিজেকে বাঁচাতে দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে দেন তিনি। তবে দুটি হাতের অনেক অংশই অ্যাসিড হামলার জেরে পুড়ে যায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ঘটনার তদন্ত যত এগিয়েছে তত বিষয়টি অন্য দিকে বাঁক নিয়েছে। তরুণীর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা। পুলিশ জানতে পারে, ওই তরুণীর উপর কেউই অ্যাসিড হামলা করেনি। পুরো ঘটনাটি তাঁর বাবা সাজিয়েছেন।
কিন্তু কেন অপরাধের এই চিত্রনাট্য? জানা গিয়েছে, তিন যুবককে ফাঁসাতে এই গল্প তৈরি করা হয়। ইতিমধ্যে ‘আক্রান্ত’ তরুণীর বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। জেরার মুখে অপরাধের কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তরুণীর বাবা জানিয়েছেন, বাড়ি থেকে শৌচাগার পরিষ্কার করার অ্যাসিড সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর মেয়ে। পরে সেই অ্যাসিড নিজের হাতে ঢেলে দেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল যে অভিযুক্তের কথা তরুণী বলছিলেন তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে ওই তরুণীর বাবার বিরুদ্ধে। এমনকি থানায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। মহিলার অভিযোগ, ওই তরুণীর বাবার কাছে কাজ করতেন তিনি। সম্প্রতি কাজ ছেড়ে দেন। তবে যখন কাজ করতেন সেই সময় জোর করে তাঁকে যৌন সম্পর্ক করতে বাধ্য করা হয়। শুধু তাই নয়, পরে ভিডিয়ো দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করতেন তরুণীর বাবা। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার কারণেই এই গল্প ফাঁদা হয়েছে বলে পুলিশি জেরায় জানিয়েছেন তিনি।
