ওঙ্কার ডেস্ক: হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের বিস্ফোরক অভিযোগের পর বহুদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আদানি গোষ্ঠী। অবশেষে দীর্ঘ তদন্তের পর সেই অভিযোগকেই ভিত্তিহীন ঘোষণা করল ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি)। সংস্থার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাজারে কারসাজি, অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস বা শেয়ারহোল্ডিং সংক্রান্ত অনিয়মের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রশ্নই ওঠে না।
সেবি-র তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানি গোষ্ঠী যে লেনদেনগুলিতে যুক্ত ছিল, তা সম্পূর্ণ বৈধ। সেখানে প্রতারণামূলক কোনও দিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, সংস্থার অভ্যন্তরীণ সদস্যরা নাকি শেয়ার বাজারে প্রভাব ফেলতে ইচ্ছে করে শেয়ার কিনে-বেচা করেছিলেন। কিন্তু সেবি জানিয়েছে, সমস্ত লেনদেন নথিভুক্ত এবং স্বচ্ছ। কোনও আত্মসাত, অবৈধ আর্থিক যোগসাজশ বা অস্বচ্ছতা ধরা পড়েনি।
‘রিলেটেড পার্টি ট্রানজ্যাকশন’ নিয়ে হিন্ডেনবার্গের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। অর্থাৎ সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আর্থিক কারসাজির ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। এ প্রসঙ্গে সেবি স্পষ্ট করেছে, ২০২১ সালে এই সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার আগে আদানি গোষ্ঠীর লেনদেনগুলি ওই আইনি কাঠামোর আওতায় পড়ত না। সেই কারণে অভিযোগের কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
এই রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় গৌতম আদানি জানিয়েছেন, “সত্যের জয় হয়েছে। হিন্ডেনবার্গের অভিযোগের ফলে আমাদের বিনিয়োগকারীদের মানসিক আঘাত লেগেছিল। আজ সেবি-র সিদ্ধান্ত প্রমাণ করল যে, সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন ছিল।” তিনি আরও বলেন, এই ক্লিনচিট আদানি গোষ্ঠীর ভাবমূর্তি ফের জোরদার করবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর আদানি গোষ্ঠীর একাধিক সংস্থার শেয়ারের দামে তীব্র ধস নামে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতের অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট গোষ্ঠীকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। রাজনৈতিক মহলেও বিরোধীরা এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল। তবে সেবি-র এই সিদ্ধান্তে অভিযোগের ভার কাটিয়ে উঠল আদানি গোষ্ঠী।
তবে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মত, সেবি-র ক্লিনচিটে আপাতত বিতর্ক থেমে গেলেও বাজার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
