ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে বর্ষীয়ান নেতা অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে শোকস্তদ্ধ গোটা দেশ। বুধ সকালে বারামতীতে এক রাজনৈতিক সভায় অংশগ্রহন করতে যাওয়ার সময় চাটার্ড প্লেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। মহারাষ্ট্রের বারামতীতে আজ রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পওয়ারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। সকাল থেকেই গোটা শহর জুড়ে শোকের আবহ দেখা যায়। দলীয় কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠ এবং শেষযাত্রার নির্ধারিত রুটে। জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সুত্রের খবর অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠ এবং আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড বসিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে। বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ, ট্রাফিক কর্মী ও কুইক রেসপন্স টিম। সকাল ৯টা নাগাদ তাঁর মরদেহ বারামতীতে আনা হয় এবং সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠে রাখা হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সমর্থকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ ফুল ও মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনেককেই আবেগপ্রবণ অবস্থায় দেখা যায়।
সকাল ১০টা থেকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দলীয় কর্মীদের মধ্যে ‘অজিত দাদা অমর রহে’ স্লোগান শোনা যায়। গোটা এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল ১১টায় মরদেহবাহী শোভাযাত্রা বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠ থেকে নির্ধারিত রুট ধরে এগিয়ে যায়। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ হাত নেড়ে ও ফুল ছুড়ে শেষ বিদায় জানান। ভিড় সামলাতে একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
নির্ধারিত সময় অনুসারে, শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর, দুপুর ১২টা ৩০ কাছাকাছি শোভাযাত্রা পুনরায় বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের মাঠে ফিরে আসবে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। প্রশাসনের উপস্থিতিতে সমস্ত সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন কর আহবে বলে জানানো হয়েছে। শেষযাত্রা ঘিরে বারামতী কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বহু দোকানপাট আংশিক বন্ধ থাকে এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ জড়ো হন। দীর্ঘদিনের এই জননেতার প্রয়াণে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পাওয়ারের শেষকৃত্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও উপস্থিত থেকে মরদেহে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করবেন বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আরও কয়েকজন সদস্য এবং শাসকদলের শীর্ষ নেতারাও অনুষ্ঠানে যোগ দিশকৃত্য মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে বারামতীতে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁরা প্রশাসনিক তদারকি করার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে অজিত পওয়ারের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদরাও দলে দলে এসে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন
এনসিপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও বর্ষীয়ান নেতা শরদ পওয়ার, অজিত পওয়ারের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম পথপ্রদর্শক, তিনিও পরিবার ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত রয়েছেন। দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক পদাধিকারী ও বহু পুরনো সহকর্মীকেও সেখানে দেখা গেছে।
