ওঙ্কার ডেস্ক: পণের জন্য ক্রমাগত শ্বশুরবাড়ি থেকে চাপ, বেতন ও ফ্ল্যাট চেয়েও ক্রমাগত হয়রানি। আর তার জেরে মহারাষ্ট্রের পুনেতে আত্মহত্যা করলেন ৩৩ বছর বয়সী এক আইটি ইঞ্জিনিয়ার। মৃত্যুর আগে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেচেন তিনি। পুলিশ তাঁর স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত তরুণীর নাম তৃষ্ণা রাহুল সাকপাল। পুলিশের কাছে তাঁর বাবা বালকৃষ্ণ নিকাম অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে রাহুল সাকপালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তৃষ্ণা। নিকামের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েকে নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল—পুরো বেতন তুলে দেওয়া, পৈতৃক বাড়ির ফ্ল্যাট শাশুড়ির নামে লিখে দেওয়া এবং শ্বশুরের জন্য ১ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার জন্য নানারকম ভাবে হয়রানি করা হত।
২০২১ সালে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর পুনরায় বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তাঁর স্বামী বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। সেই মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। কিন্তু মামলার নিষ্পত্তি না হলেও ২৯ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়িতে তিনি আত্মহত্যা করেন। পুলিশ একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যাতে তরুণী তাঁর মৃত্যুর জন্য স্বামী, শাশুড়ি বৈশালী, শ্বশুর সঞ্জয়, ননদ শৈলী এবং স্বামীর ঠাকুমা শকুন্তলা সালুঙ্কেকে দায়ী করেছেন। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।