ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের জেরে দেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় রাজ্যগুলিকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য বিক্ষোভ, মিছিল বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে কোনওভাবেই অশান্তির দিকে না গড়ায়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতিবাদ মিছিল, স্লোগান, এমনকি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির খবর মিলেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির তরফে কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে, বিদেশের সংঘাতকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা থেকে স্থানীয় স্তরে অশান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই রাজ্যগুলিকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, সংবেদনশীল এলাকা, ধর্মীয়ভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চল এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী প্রস্তুত রাখা এবং ভুয়ো খবর রুখতে সাইবার সেলকে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, জেলা স্তরেও আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা বৈঠক করার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনগুলিকে জনসাধারণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গেও আলোচনায় বসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দেশের অভ্যন্তরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হলে প্রয়োজনে কূটনৈতিক স্তরে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বিদেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব যাতে দেশের মাটিতে অশান্তি ডেকে না আনে, তা নিশ্চিত করতেই এই আগাম সতর্কবার্তা বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
