ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতে নাশকতার ছক বানানোর অভিযোগে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে ছ’জনকে আটক করা হয়েছে তামিলনাড়ু-র তিরুপ্পুর জেলা থেকে এবং বাকি দু’জনকে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-র যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গেও তাদের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে ছিল এবং সংগঠিতভাবে নাশকতার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। ধৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশী নাগরিক বলে জানানো হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফ থেকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিরুপ্পুরে তারা মূলত পোশাক কারখানায় শ্রমিকের ছদ্মবেশে কাজ করছিল। অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন, একাধিক সিম কার্ড এবং জাল আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবহুল এলাকাকে নিশানা করে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। এই নাশকতা হামলার কথা আগেই ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গোপন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছিল। সেইমত দেশের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায়, ধর্মীয় স্থানে, প্রাশাসনিক ভবনে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়। পাশাপাশি তল্লাশি চালানো হয় দেশজুড়ে।
এই ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে দিল্লি পুলিশ স্পেশাল সেল। ধৃতদের দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, বিদেশে বসে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড সমাজমাধ্যম অ্যাপে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানো এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থলে গোপনে নজরদারি চালানোর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্তপারের মদতে নাশকতার চেষ্টা রুখতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে, এই অভিযান তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই চক্রের বিস্তার ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
