ওঙ্কার ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম দিল্লি সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২১ মে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে পৌঁছনোর কথা তাঁর। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই সফর ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, সূত্রের খবর অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সেই বৈঠক হতে পারে বলেই জানা যাচ্ছে। বঙ্গে বিপুল আসন সংখ্যাতে জয়ী হয়েছে গেরুয়া শিবির। নতুন সরকার গঠনের পর এই সাক্ষাৎকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শপথ গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয়তা দেখিয়েছে নতুন সরকার। অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর ঘোষণা, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবার পরিকল্পনা, কেন্দ্রীয় প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত চালুর সিদ্ধান্ত এবং সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের মতো পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি সফরকে শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হয়নি। কোন নেতাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, কোন দপ্তর কার হাতে যাবে, সেই বিষয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সঙ্ঘের শীর্ষস্তরের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের তালিকাও ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠক হতে পারে বলে খবর। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া অর্থ, শিল্প বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ঋণের চাপ এবং আর্থিক সঙ্কট নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রের সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও দিল্লিতে পৌঁছচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে সাংগঠনিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো কীভাবে আরও শক্তিশালী করা হবে, সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হওয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাঁচ দিনের বিদেশ সফর থেকে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রিয় মন্ত্রকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।