ওঙ্কার ডেস্ক: ১১ নভেম্বর বিহারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ২০টি জেলার মোট ১২২টি আসনে ভোটদান চলে শান্তিপূর্ণভাবে, যদিও কিছু জায়গায় অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর তিনটে পর্যন্ত গড়ে ৬০.৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা প্রথম দফার তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি। প্রথম দফায় এই একই সময়ে ভোটের হার ছিল প্রায় ৫৩.৭৭ শতাংশ। ভোটের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান রাতের মধ্যে প্রকাশ পাবে বলে জানা গিয়েছে।
দ্বিতীয় দফার এই ভোটকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। সীমান্তবর্তী সাতটি জেলায় ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকেই সীমান্ত সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয় যাতে কোনও বেআইনি প্রবেশ বা ভোট ব্যাহত করার আশঙ্কা না থাকে। প্রত্যেক বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়।
এদিনের ভোটে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ, রাজদ, বিজেপি ও কংগ্রেস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী ভাগ্য পরীক্ষা করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। মহিলাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য অনেক বুথে দেখা গিয়েছে, সকাল থেকেই সারি বেঁধে ভোট দিতে আসছেন মহিলারা, যাঁদের ভোটদানের হার পুরুষদের তুলনায় অনেক জায়গায় বেশি ছিল।
মোতামুটি শান্ত পরিবেশে ভোট গ্রহন চললেও সব বুথে ভোট শান্তিপূর্ণ হয়নি। আরওয়াল জেলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক প্রিসাইডিং অফিসারের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আরারিয়া জেলায় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে, যদিও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন জল্পনা, উচ্চ ভোটদানের হার কোন দলের পক্ষে সুবিধা আনবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে। অন্যদিকে, শহুরে ও তরুণ ভোটারদের আচরণও চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী ১৪ তারিখে বিহার বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল জানাবে বিহারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সামলাবে কে।
