বিশ্বজিৎ হালদার, ওঙ্কার বাংলা: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট রবিবার পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এই বাজেট দেখে বঙ্গ বিজেপির অবস্থা কার্যত মুখে হাসি, মনে হতাশা। কারণ, বিহারের কপালে জুটলেও বঙ্গের কপালে জুটল কই। প্রকাশ্যে এই বাজেট নিয়ে প্রশংসা করলেও মনে মনে হতাশ বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিজেপির অনেক নেতা বলছেন, ভোটমুখী বিহারের কপালে জুটেছিল বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ। কিন্তু ভোটমুখী বাংলার জন্য বাজেটে বাড়তি কোন বরাদ্দ জুটল না। গেরুয়া শিবির মনে করছিল, যেহেতু ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন। সেই বিষয় মাথায় রেখে বাজেটে বাংলার জন্য নতুন কোনও প্রকল্প ঘোষণা করা হবে বাজেটে। কিন্তু প্রকল্প দূরে থাক, গোটা বাজেট পেশ পর্বে বাংলার নাম কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মুখে শোনা যায়নি। বাজেটে শুধু শোনা গেছে, ডানকুনি, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুরের নাম। বাজেটে বাংলার কপালে জুটেছে, সুরাত থেকে ডানকুনি পণ্য পরিবহণ করিডর। বারাণসী-শিলিগুড়ি রেল হাইস্পিড করিডর। ইস্ট কোস্ট শিল্প করিডরের কেন্দ্রবিন্দু হবে দুর্গাপুর। বাজেটে বাংলার জন্য পাওনা বলতে এইটুকু। বাজেট নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কটাক্ষ ছুড়েছে তৃণমূল। তবে বাজেট নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশংসা শোনা গিয়েছে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের মুখে।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, সব কিছু বাজেটে ঘোষণা করা সম্ভব নয়। কিছু ভোটের জন্য রাখা হয়েছে। সুকান্ত মজুমদারের গলায়ও শোনা গিয়েছে একই সুর। তবে অনেকে মনে করেছেন, ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপির হাতে প্রচারের যে অস্ত্র তা পাওয়া গেল না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির এক মাত্র ভরসা মমতা সরকারের দুর্নীতি। যদিও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় স্পষ্ট, সত্যি সত্যি তৃণমূল সরকারকে হটাতে চায় না দিল্লি বিজেপি। এক্ষেত্রে মোদী সরকারের একটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই মুহূর্তে দিল্লির মসনদে জোট সরকার। আপদে বিপদে পুরনো বন্ধু তৃণমূলকে দরকার হতে পারে। দ্বিতীয়ত, দিল্লি বিজেপি হয়তো পূর্বাভাস পেয়েছে, এই মূহূর্তে বঙ্গে পদ্ম চাষের জন্য জলবায়ু উপযুক্ত নয়। তাই বাজেটে বারতি বরাদ্দ নেই। কার্পণ্য করেছেন নির্মলা। বিহারে জয়ের পূর্বাভাস পেয়েছিল দিল্লির বিজেপি নেতারা। তাই সাহস করে বিহারের জন্য বাড়তি বরাদ্দ ছিল বাজেটে। কিন্তু বাংলার জন্য তাই সাহস দেখাতে পারেনি দিল্লি। প্রশ্ন উঠছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে বিজেপির অস্ত্র কি শুধু তৃণমূলের অপশাসন? বাজেট নিয়ে মনক্ষুন্ন বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতা। তবে অনেকে মনে করছেন বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে একাধিক জনমুখী ঘোষণা থাকতে পারে। এখন দেখার নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি কোন অস্ত্রে তৃণমূলকে নিশানা করে।
