ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লিতে সাইবার প্রতারণার শিকার হলেন এক প্রবীণ এনআরআই চিকিৎসক দম্পতি। প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকা খোয়াতে হয়েছে তাঁদের। আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে মানসিক চাপ ও ভয় দেখিয়ে এই প্রতারণা চালানো হয়, যাকে পুলিশি পরিভাষায় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, দিল্লির গ্রেটার কৈলাশ এলাকায় বসবাসকারী ওই চিকিৎসক দম্পতি দীর্ঘদিন বিদেশে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তাঁদের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে নিজেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশের আধিকারিক বলে পরিচয় দেয় প্রতারকরা। বলা হয়, তাঁদের নাম নাকি আর্থিক কেলেঙ্কারি ও মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলায় জড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি ভয় দেখিয়ে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এরপরই শুরু হয় মানসিক নিপীড়নের পর্ব। প্রতারকরা দম্পতিকে কার্যত ‘ডিজিটাল নজরবন্দি’ করে রাখে। দিনের পর দিন ফোন ও ভিডিও কলে যোগাযোগ রেখে বলা হয়, কাউকে কিছু জানানো যাবে না। পুলিশি গ্রেফতার, জেল ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ভয় দেখিয়ে তাঁদের সম্পূর্ণভাবে আতঙ্কিত করে ফেলা হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, দম্পতি নিজেদের প্রতিটি পদক্ষেপ প্রতারকদের নির্দেশ মেনে নিতে বাধ্য হন।
এই সময়ের মধ্যেই একাধিক দফায় বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলা হয় তাঁদের। কখনও বলা হয় তদন্তের জন্য টাকা ‘সেফ কাস্টডি’-তে রাখতে হবে, কখনও আবার বলা হয় যাচাই শেষ হলে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ভয় ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে চিকিৎসক দম্পতি ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেন প্রতারকদের দেওয়া অ্যাকাউন্টে।
প্রায় দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রতারণার পর একদিন প্রতারকরা জানায়, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা ফেরত পেতে হলে পুলিশ স্টেশনে যেতে হবে। তখনই তাঁদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ সব শুনে জানায়, এটি সম্পূর্ণ একটি সাইবার প্রতারণা এবং কোনও সরকারি সংস্থাই এভাবে ফোন করে টাকা দাবি করে না।
ঘটনার পর দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল তদন্ত শুরু করেছে। কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে, টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
