ওঙ্কার ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ব্রিকস অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ফাঁকে বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সৌজন্য সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইজরায়েল-ইরান সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের অস্থিরতার আবহে এই সাক্ষাৎ ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে।
বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং উভয়ের মধ্যে করমর্দন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং পশ্চিম এশিয়ার জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশও বহন করছে। বিশেষ করে ইরান ও ইজরায়েলের সংঘর্ষ ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ভারতের অবস্থান নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে বাড়তি নজর তৈরি হয়েছে।
ব্রিকস বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে এস জয়শঙ্কর নিরাপদ ও অবাধ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য সমুদ্রপথে বাণিজ্য চলাচল সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। হরমুজ প্রণালী এবং পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ, জ্বালানির দাম এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির ওপর। ভারতের এই বার্তা স্পষ্টতই জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলির উদ্বেগের প্রতিফলন।
অন্যদিকে, ইরান ব্রিকস সদস্য দেশগুলির কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়। ইরানের বক্তব্যে পশ্চিমা নীতির সমালোচনা স্পষ্ট হলেও ভারত বরাবরের মতো ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখে। দিল্লি সরাসরি কোনও পক্ষকে আক্রমণ না করে শান্তি, সংলাপ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত বর্তমানে এক জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একদিকে আমেরিকা, ইউরোপ ও ইজরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক, অন্যদিকে ইরান, রাশিয়া ও ব্রিকস জোটের সদস্যদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ভারতের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর ও আরাঘচির সাক্ষাৎ ভারতের বহুমুখী কূটনৈতিক নীতিরই প্রতিফলন।
ভারতের জন্য ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অংশীদার এবং চাবাহার বন্দরের মতো কৌশলগত প্রকল্পে দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। ফলে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মধ্যেও দিল্লি তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে আগ্রহী। ব্রিকস মঞ্চে এই সাক্ষাৎ সেই সম্পর্ককে আরও কার্যকর রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।