ওঙ্কার ডেস্ক: একদিকে যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করছেন ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায়। সেদিনই বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বেলেঘাটার জয়ী তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েও বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন কুণাল ঘোষ। সমাজ মাধ্যমে নিজের ‘আত্মবিশ্লেষন’ প্রকাশ করে তাঁর দাবি, তাপস রায়, সজল ঘোষদের দল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবে জোড়াফুল শিভিরের অন্দরে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তাপস রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। তাপস জোড়াফুল শিবির ছাড়ার সময় কুণাল নিজে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন মানভঞ্জন করতে কিন্তু তাপসের বিজেপিতে যাওয়া রুখতে পারেননি কুণাল। সেই সময় ধারাবাহিক ভাবে তৃণমূলের একাংশের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তিনি। এদিন ঠিক কী লিখেছেন কুণাল ঘোষ? ফেসবুকে বেলেঘাটার বিধায়ক লিখেছেন, ‘বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে শপথ। ধন্যবাদ মাননীয়া দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধন্যবাদ বেলেঘাটা কেন্দ্রের নাগরিকদের। শপথ পাঠ করালেন মাননীয় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়। দীর্ঘদিনের দাদা এবং নেতা। তাপসদাকে তৃণমূলে রাখতে আমরা চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে আমি তাপসদাকে ভালো বলায় আমাকে দল সাসপেন্ড করেছিল। ঘটনাচক্রে আমি আজ দলের বিধায়ক এবং শপথবাক্য পাঠ করছি বিজেপির হয়ে জিতে আসা তাপসদার হাতে। ভাগ্যচক্র।’
এর পর তিনি বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষকে নিয়ে লেখেন, ‘সজল পুরপিতাও বটে। উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপসদা, সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। দুজনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম। আজ তারা বিধায়ক । আমি তৃণমূলের সৈনিকই আছি। লড়াই চলবে। তবে যার বা যাদের জন্যে তাপসদা, সজলরা, আরও অনেকে দল ছেড়েছে, দলের ক্ষতি হয়েছে, তারপরেও একইরকম হোয়াটসঅ্যাপ কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ চলছে, সেটা খুবই আপত্তির এবং উদ্বেগের। এভাবে চললে কর্মীরা ধৈর্য হারাচ্ছেন। তৃণমূলকে চাঙ্গা করার লড়াইতে আত্মবিশ্লেষণটাও জরুরি। আমরা তৃণমূলের সৈনিকরা দলনেত্রীর নির্দেশে লড়ছি।’ তবে এই মন্তব্য করার ফলে তাঁর দিকে যে ধেয়ে আসতে পারে সমালোচনার তীর, তা ভেবেই কুণাল আবার লিখেছেন, ‘পুনশ্চ: কেস দেবেন না প্লিজ।’