ওঙ্কার ডেস্ক: গত বছর ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ১১ জনের। সেই ঘটনায় জড়িত ১০ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭,৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। বৃহস্পতিবার পাতিয়ালা হাউস কোর্টে এনআইএ-এর বিশেষ আদালতে ওই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে অভিযুক্তরা আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ-এর সঙ্গে যুক্ত। এই জঙ্গিগোষ্ঠীটি ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা-এর একটি শাখা হিসেবে কাজ করে।
সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনআইএ-র এক ঊর্ধ্বতন কর্তা বলেন, ‘সকল অভিযুক্ত আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল, এটি ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা (একিউআইএস)-এর একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। ইউএপিএ আইন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-সহ একাধিক ধারায় নয়াদিল্লির পাতিয়ালা হাউসে এনআইএ-এর বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।’ উল্লেখ্য, এই বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত, পুলওয়ামার বাসিন্দা এবং ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক উমর উন নবী বিস্ফোরণে নিহত হন। তদন্তকারীরা ডিএনএ পরীক্ষা করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন। অন্য নয় অভিযুক্ত হলেন আমির রশিদ মীর, জসির বিলাল ওয়ানি, ডঃ মুজামিল শাকিল, ডঃ আদিল আহমেদ রাথার, ডঃ শাহীন সাঈদ, মুফতি ইরফান আহমেদ, সোয়াব, ডঃ বিলাল নাসির মাল্লা এবং ইয়াসির আহমেদ দার। তাদের সকলের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, অস্ত্র আইন এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এনআইএ -এর গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন অভিযুক্তরা আল-কায়েদা ইন দ্য ইসলামিক স্টেট (একিউআইএস)-এর মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে চরমপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছিল। চিকিৎসকের পেশার পাশাপাশি অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন জঙ্গি গোষ্ঠীতে নতুন নতুন লোকজনকে যুক্ত করতে মগজ ধোলাইয়ের কাজ করত।