ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর জুড়ে ঘন কুয়াশা ও মারাত্মক দূষিত বাতাস একসঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতের সকালে রাজধানীর বহু এলাকায় দৃশ্যমানতা নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। কুয়াশা ও ধোঁয়ার মিশ্রণে তৈরি স্মগে ঢেকে গিয়েছে রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার ও উঁচু ভবনগুলি। ভোরের দিকে যান চলাচল কার্যত শামুকগতিতে চলে, বহু গাড়িকে হেডলাইট জ্বালিয়ে এগোতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও যানজটের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
এই প্রতিকূল আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহণ ব্যবস্থায়। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় বহু বিমান বাতিল ও একাধিক উড়ান দেরিতে ছাড়ে। ট্রেন পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে, বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে গন্তব্যে পৌঁছেছে। যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে স্টেশন ও বিমানবন্দরে।
একই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। দিল্লির বায়ুমান সূচক দীর্ঘ সময় ধরে ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘গুরুতর’ স্তরে অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠান্ডা আবহাওয়া, বাতাসের গতি কম থাকা এবং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে দূষিত কণা নিচের স্তরেই আটকে যাচ্ছে। যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প কারখানা, নির্মাণকাজের ধুলো এবং অন্যান্য দূষণের উৎস মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই দূষিত বাতাসের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপরও। শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, গলা খুসখুস ও কাশি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকেই। শিশু, বয়স্ক এবং আগে থেকেই শ্বাসযন্ত্র বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এড়াতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত এই কুয়াশা ও দূষণের পরিস্থিতি পুরোপুরি কাটতে সময় লাগতে পারে। বাতাসের গতিবেগ না বাড়া পর্যন্ত এবং আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত দিল্লিবাসীকে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই দিন কাটাতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
