ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরিত হওয়া সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি কে চালাচ্ছিল, তা নিয়ে এতদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল স্পষ্ট করে দিল রহস্য। বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন দেহের অংশের ডিএনএ নমুনা মেলানো হয় জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বাসিন্দা এক চিকিৎসক উমর নাবির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। পুলিশের দাবি, পরীক্ষার ফলে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই বিস্ফোরণকাণ্ডে ব্যবহৃত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন উমর নাবি নিজেই।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের কিছু ঘণ্টার মধ্যেই পুলওয়ামায় উমরের বাড়িতে তল্লাশি চালায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। আটক করা হয় তাঁর মা ও দুই ভাইকে। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় দিল্লির ফরেন্সিক ল্যাবে। সেই পরীক্ষার ফলেই নিশ্চিত হয়েছে, গাড়ির চালকের আসনে পাওয়া দেহাংশ উমরেরই। পুলিশের মতে, বিস্ফোরণের শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে, গাড়িটি মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং চালকের দেহের বড় অংশ আগুনে পুড়ে যায়।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিস্ফোরিত গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন পূর্বে ছিল দিল্লিরই এক বাসিন্দা সালমানের নামে। সালমানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি কিছু মাস আগে গাড়িটি বিক্রি করেছিলেন পুলওয়ামার এক যুবককে। পরে জানা যায়, সেই ক্রেতাই ছিলেন উমর নাবি, যিনি পেশায় চিকিৎসক। সূত্রের খবর, বিস্ফোরণের আগে উমর দিল্লিতে প্রবেশ করেছিলেন ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে। পুলিশের সন্দেহ, কোনও সংগঠিত গোষ্ঠীর নির্দেশে তিনি এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের উপাদান, সার্কিট বোর্ড ও তারের অংশ খতিয়ে দেখছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। প্রাথমিক অনুমান, গাড়ির ভিতরে শক্তিশালী আইইডি ব্যবহার করা হয়েছিল। বিস্ফোরণের ধরণ ও বিস্তার দেখে মনে করা হচ্ছে, এটি ছিল পরিকল্পিত নাশকতারই অংশ।
এই নতুন তথ্য সামনে আসায় তদন্তের গতিপথ একেবারে নতুন মোড় নিয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, উমরের পেছনে কারা ছিল এবং তিনি দিল্লিতে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, উমর নিখোঁজ হয়েছিলেন কয়েকদিন আগেই, এবং তারা জানতেন না তিনি দিল্লিতে এসেছেন।
বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীজুড়ে এখনও চরম সতর্কতা জারি রয়েছে। লালকেল্লা ও তার আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা নজরদারি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কল ডেটা রেকর্ড পরীক্ষা ও সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারি, সবদিকেই তদন্ত চলছে জোরকদমে। দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “যে কোনও মূল্যে এই ষড়যন্ত্রের মূল পর্যন্ত পৌঁছনোই এখন লক্ষ্য”।
এই বিস্ফোরণ কান্ডে বুধবার রাত পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকাতী সংস্থা। এছাড়াও একাধিক ব্যাক্তিত্বকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং কড়া ভাষায় হুমকি দিয়েছেন এই ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাঁদের কাউকে রেয়াত করবে না প্রসাশন। ভুটান থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যান। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি এক সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন ঘটনার তদন্তের দিক নির্দেশের কারণে।
